আলজাজিরা ডেইলি নিউজ : গাজা সংকট নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। গাজায় মানবিক সহায়তা দেওয়া ৩৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধের সমালোচনায় ইস্তাম্বুলে জুমার নামাজের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। গাজায় মানবিক সহায়তা দেয়া ৩৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে ইসরাইল। যার মধ্যে ডক্টর্স উইদাউট বর্ডারসও রয়েছে। ইসরাইলি সরকারের দাবি, এসব সংস্থা ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করার আড়ালে হামাসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ দেখায়নি দেশটি।

নেতানিয়াহু সরকারের এই পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ৩৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার লাইসেন্স বাতিলের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে খোদ ইসরাইলের ১৯টি মানবাধিকার সংস্থা। এক যৌথ বিবৃতিতে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে আদালাহসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো। ইসরাইলের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এরদোগানও। তিনি বলেন, ‘গাজায় শিশুদের কান্না ও দুর্দশা বিশ্বকে নাড়া দিচ্ছে। কিন্তু তারপরেও ইসরাইল ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাতাস, বৃষ্টি এবং কাদার মধ্যে বসবাসকারী শিশুদের কান্না করা ছাড়া উপায় নেই, কেননা তাদের কাছে তাঁবু নেই।’ এরদোগান বলেন, ‘আমরা কন্টেইনার পাঠাতে চাই, কিন্তু নেতানিয়াহুর যেতে দেয় না... আজ হোক কাল হোক, আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা এই নির্যাতিত মানুষকে এই কষ্ট থেকে উদ্ধার করব।’ ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইস্তাম্বুলের গালাতা সেতুতে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে ফিলিস্তিন একা নয়। তুরস্ক ও ইসলামী বিশ্ব তাদের সব শক্তি দিয়ে গাজার পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

গাজায় ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যার তীব্র সমালোচনা করে আসছে তুরস্ক। সেই সঙ্গে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটি ইসরাইলের সাথে বাণিজ্য কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে আঙ্কারা ইসরাইলের ১,০০০ টিরও বেশি পণ্য রফতানি নিষিদ্ধ করে। পরে সকল বিভাগেরই রফতানি, আমদানি এবং ট্রানজিট বাণিজ্য সম্পূর্ণ স্থগিত করে। ইউক্রেনের মাত্র ০.৮ শতাংশ ভূমি দখলের জন্য রাশিয়ার ৪ লাখের বেশি সেনা হতাহত

রাশিয়া ২০২৫ সাল শেষ করেছে ইউক্রেনের শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ এড়ানোর মাধ্যমে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণার মধ্যদিয়ে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইউক্রেনের ০ দশমিক ৮ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করতে গিয়ে ৪ লাখের বেশি রুশ সেনা হতাহত হয়েছে।

গত ২৭ ডিসেম্বর এবং পরবর্তীতে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার জেনারেল স্টাফের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের আগে ও পরে এই দুই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ ইউক্রেন যুদ্ধে ‘অতিরঞ্জিত’ সাফল্যের দাবি করেন। গেরাসিমভ দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউক্রেনের ৬ হাজার ৬৪০ বর্গকিলোমিটার (২ হাজার ৫৬৪ বর্গমাইল) এলাকা দখল করেছে রুশ বাহিনী। তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে অন্তত ৩৩৪টি ইউক্রেনীয় বসতি।

তবে ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) জানায়, তারা মাত্র ৪ হাজার ৯৫২ বর্গকিলোমিটার (১ হাজার ৯১২ বর্গমাইল) এলাকায় রুশ উপস্থিতির প্রমাণ এবং ২৪৫টি বসতিতে নিয়ন্ত্রণের তথ্য পেয়েছে। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি জানান, ৬ লাখ ৩ হাজার ৫৫০ বর্গকিলোমিটার (২ লাখ ৩৩ হাজার ৩২ বর্গমাইল) ভূখণ্ডের মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ হারিয়েছে। অন্যদিকে এই পরিমাণ ভূখণ্ড দখলে নেয়ার অভিযানে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার রুশ সেনা নিহত ও আহত হয়েছে। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১১ হাজার ৫০০ ট্যাংক, ২৪ হাজার সাঁজোয়া যুদ্ধযান, ৩৭ হাজারের বেশি আর্টিলারি, ৭৮১টি বিমান এবং ৪,০০০-এরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হারিয়েছে রাশিয়া। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদও রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের পোক্রোভস্ক ও মিরনোহরাদ শহর দখল করতে পারেনি। অথচ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে এসব অঞ্চল দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুতিনের বাহিনী।

এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া যেসব সাফল্যের দাবি করছে, সেসব ক্রমেই ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। যেমন জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের হুলিয়াইপোল শহরের মাত্র ৫৫ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ছিল, যদিও তারা পুরো শহর দখলের দাবি করেছিল। এমনকি রুশ সামরিক ব্লগাররাও এখন স্বীকার করছেন, দেশটি উত্তর খারকিভ অঞ্চলের কুপিয়ানস্ক শহর দখলের দাবি করলেও আসলে সেখান থেকে রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে বিতাড়িত হচ্ছে। সম্প্রতি ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ একটি সংবাদমাধ্যম লিখেছে, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়ার কারণে কুপিয়ানস্ক দখলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রিজার্ভ বাহিনীকে অন্য এলাকায় পাঠানো হয়।’ ভালদাই লক্ষ্য করে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছিল কি না—তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে রাশিয়ার হামলার বিষয়টি পরিষ্কার। বছরের শেষ সপ্তাহে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হাজারের বেশি ড্রোন এবং ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে । ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, তারা রাশিয়ার ৮৬ শতাংশ ড্রোন এবং ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।