রয়টার্স : গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। গত বুধবার এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এ ঘোষণা দিয়েছেন।
এই ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে যখন প্রথম পর্যায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেমন ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি, এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নতুন ধাপটি শুরু থেকেই জটিলতা ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ধাপে গাজায় একটি অস্থায়ী টেকনোক্র্যাটিক ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর, কাতার ও তুরস্কের যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ১৫ সদস্যের এই ফিলিস্তিনি কমিটির নেতৃত্ব দেবেন আলি শাথ। তিনি পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী এবং শিল্পাঞ্চল উন্নয়নবিষয়ক দায়িত্বে ছিলেন।
এই কমিটিকে বোর্ড অব পিস নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তত্ত্বাবধান করবে। যা গাজাকে অস্থায়ীভাবে শাসন করবে। গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাস ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে। বোর্ড অব পিসের পক্ষে মাঠপর্যায়ে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ। তালিকায় বেসরকারি খাত ও এনজিও খাতের প্রতিনিধিদের নামও রয়েছে। তবে উইটকফ কমিটির সদস্য সংখ্যা বা নাম প্রকাশ করেননি। আলি শাথ এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নতুন কমিটি প্রথমে গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তার দিকে মনোযোগ দেবে। এর মধ্যে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা অন্যতম। তিনি আরও বলেছেন, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন ভূমি তৈরির ধারণার মাধ্যমে গাজার পুনর্গঠন সম্ভব হতে পারে।
জাতিসংঘের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি পুরোপুরি পুনর্গঠনে অন্তত ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, এমনকি তা আরও দীর্ঘায়িতও হতে পারে। স্টিভ উইটকফ আরও জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ধাপে গাজার পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠন শুরু হবে। যার মূল লক্ষ্য হবে অনুমোদনহীন সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র কেড়ে নেয়া। হামাস অস্ত্র ত্যাগে অস্বীকৃতি জানালেও গত অক্টোবরে তারা গাজা শাসনভার টেকনোক্র্যাটিক কমিটির হাতে তুলে দিতে সম্মত হয়।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এক নেতা বলেছেন, গাজার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এক ব্যবস্থা, এক আইন ও এক বৈধ অস্ত্র, এই নীতির ভিত্তিতে। দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনার জন্য হামাসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর নেতারা বর্তমানে কায়রোতে অবস্থান করছেন। মিসরীয় সূত্র জানিয়েছে, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন হামাসের নিরস্ত্রীকরণ। ইসরায়েলের আরও সেনা প্রত্যাহার এই নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত হলেও হামাস বলেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা অস্ত্র ছাড়বে না।