রয়টার্স : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক তেলবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরবরাহ সংকট তৈরি করছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সংস্থাটি তাদের মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে বলেছে, পারস্য উপসাগর অঞ্চলে জাহাজ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে নতুন করে হামলার কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্যের প্রবাহ এখন প্রায় ‘ফোঁটার মতো ক্ষীণ’ হয়ে গেছে। সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়।
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথকে আইইএ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন সংকীর্ণ পথ বা ‘ক্রিটিক্যাল অয়েল ট্রানজিট চোকপয়েন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ খুবই সীমিত। এদিকে তাদের সংরক্ষণ ট্যাংক দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এসব দেশ দৈনিক অন্তত এক কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। আইইএ সতর্ক করে বলেছে, জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সরবরাহ ঘাটতি আরও বাড়বে। সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি মাসে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন কমার একটি অংশ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের উৎপাদন বাড়িয়ে কিছুটা সমন্বয় করা হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল সাতটি উপসাগরীয় দেশের বেশিরভাগ (সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ইরান) বিভিন্ন মাত্রায় তাদের তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
জরুরিভিত্তিতে তেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করল চীন: জরুরিভিত্তিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে চীন। চীনের সরকারি নীতিনির্ধারক সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি) আজ বৃহস্পতিবার এক লিখিত আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ‘অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে আজ বৃহস্পতিবার থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোল, গ্যাসোলিন, ডিজেল, উড়োজাহাজে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। পুরো মার্চ মাস এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মার্চ মাসের শেষ দিকে এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ আরও বলা হয়েছে, যেসব জ্বালানিবাহী চীনা কন্টেইনার/কার্গো জাহাজ ১১ মার্চ পর্যন্ত কাস্টমস ছাড়পত্র পায়নি সেসবের ওপরেও কার্যকর হবে এই নিষেধাজ্ঞা। সেই সঙ্গে চীনা তেল পরিশোধনকারী উদ্যোক্তা-মালিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে তারা যেন নতুন কোনো রপ্তানির ফরমায়েশ (অর্ডার) এবং সম্ভব হলে পুরোনো ফরমায়েশগুলো বাতিল করার চেষ্টা করেন। উল্লেখ্য, পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের কোনো তেলখনি নেই। তবে দেশটি একই সঙ্গে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানিকারক এবং সবচেয়ে বড় পরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানিকারী। এদিকে চীনের তেল পরিশোধনকারী ব্যাবসায়ী ও রপ্তানিকারকরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা চলতি মার্চ মাসে তেলের রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, সামনেই চীনের চান্দ্র নববর্ষ উৎসব। প্রায় একমাস ধরে এ উৎসব চলবে এবং এ সময় দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাবে। তবে সরকারে আদেশ মেনে চলবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।