পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পরই সড়কে নামায পড়া বন্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। দলটির বিধায়ক অর্জুন সিং জানিয়েছেন ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং জানিয়েছেন, এখন থেকে রাস্তায় কোনও ধর্মীয় জমায়েত বা প্রার্থনা মেনে নেওয়া হবে না। ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে অর্জুন সিং বলেন, ক্যাবিনেট মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন। রাস্তায় নামায পড়া বরদাশত করা হবে না। বিবিসি, ইন্ডিয়া।

মসজিদে নামায পড়লে কোনও আপত্তি নেই কিন্তু রাস্তায় পড়া যাবে না। এর আগেও একাধিকবার বিজেপির বিভিন্ন নেতাদের রাস্তা আটকে নামায পড়ার বিরুদ্ধে কথা বলতে শোনা গেছে। অর্জুন সিং আরও বলেন, গরু পাচার, চোরা কারবার ও পুলিশের ওপর ঢিল-পাটকেল ছোড়ার বিরুদ্ধেও কঠোর হয়েছে সরকার। গত বছর কলকাতার রেড রোডে ঈদের নামায আয়োজনের অনুমতি প্রথমে দেয়নি সেনাবাহিনী। কলকাতার এই রাস্তাটি সেনাবাহিনীর অধীনে আছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, সেনার অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে পরে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসে সেনাবাহিনী ও অনুমতি দেয়। তবে রেড রোডে নামায পড়া নিয়ে আপত্তি ছিল বিজেপির একাধিক নেতার, তারা গণমাধ্যমের সামনে এই বিষয় নিয়ে আপত্তিও তুলেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গত সোমবার তাদের প্রথম বৈঠক করে। এর পরে পুলিশ, জেলাশাসকদের উদ্দেশে তিনি একাধিক নির্বাহী আদেশ দেন বলে জানা গিয়েছে। এই আদেশগুলো অনেক সময়েই বৈঠক করে ঠিক করা হয়। অনেক সময়েই এর লিখিত কোনও কপি প্রকাশিত হয় না। এগুলো মূলত প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজের রূপরেখা নির্ধারণের জন্য। ভারতের সংবিধানের ৭৭ নম্বর ধারায় রাষ্ট্রপতি, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাবিনেট ও রাজ্য সরকারের ক্যাবিনেটকে এই ধরনের অর্ডার দিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমন আদেশ সত্যিই দেওয়া হয়েছে তবে তাতে নির্দিষ্টভাবে নামায বন্ধ করার কোনো উল্লেখ নেই। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রাস্তা আটকে যে কোনও ধর্মীয় উপাসনার ক্ষেত্রেই কঠোর হতে বলা হয়েছে পুলিশকে। তিনি যোগ করেন, দুর্গা পূজা, রমযান, ঈদ ইত্যাদির মতো বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আগে থেকে করা আবেদনের ভিত্তিতে রাস্তায় জমায়েত ও উপাসনার অনুমতি আছে, যেমনটা আগেও ছিল।অল ইন্ডিয়া হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আবদুল সেলিম বলেছেন, কাটা মাংস ঢেকে বিক্রি করা ও শব্দ নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক নির্দেশিকা সমর্থনযোগ্য। তবে অর্জুন সিংয়ের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এই কথাগুলো অহেতুক বলা হয়। অর্জুন সিংয়ের কথায় নামাযও থামবে না বা আজানও বন্ধ হবে না। বিজেপি নেতার কথায় মুসলমান সমাজের মধ্যে কোনো রকম অস্বস্তির সৃষ্টি হবে না বলেই মনে করেন সেলিম। একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কলকাতা বিমানবন্দরের দুই নম্বর রানওয়েতে অবস্থিত মসজিদটিকে ‘সসম্মানে’ অন্য জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই মসজিদটি ফ্লাইট ওঠা-নামায় সমস্যা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করে থাকেন বিজেপির একাধিক নেতা-মন্ত্রী।মসজিদগুলো থেকে মাইকে কেন আজান দেওয়া হবে, সেই শব্দ কেন কানে আসবে, এই প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদীদের একাধিকবার তুলতে শোনা গেছে।