এনবিসি নিউজ,এএফপি,এনবিসি নিউজ,রয়টার্স : ইরানের চলমান সহিংস বিক্ষোভের জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমনটাই দাবি জানিয়েছেন। খামেনি বক্তব্যে বলেছেন, ইরানি জাতির ওপর যে প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি ও অপবাদ চাপানো হয়েছে, তার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে একজন অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করি। তিনি আরও বলেছেন, সম্প্রতি দেশজুড়ে চলা এই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানের সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতা। তিনি এই সহিংসতার জন্য ইরানের দীর্ঘদিনের শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। খামেনি আরও অভিযোগ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। তারা অগ্নিসংযোগ করেছে, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৮৫ জন বিক্ষোভকারী এবং একই সময়ে ২২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কিছুটা কমেছে এবং বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনও পরিকল্পনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশব্যাপী চলা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এখন ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।’ ট্রাম্পের এ মন্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক কড়া ভাষণে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘উসকানিদাতাদের’ উৎসাহিত করার অভিযোগ আনেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘ইরানি জনগণের প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি ও তাঁদের ওপর অপবাদের জন্য তিনিই দায়ী।’ খামেনি জানান, প্রধান উসকানিদাতাদের আটক করা হয়েছে এবং বিক্ষোভ অনেকটাই থিতিয়ে এসেছে বলে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে। সাক্ষাৎকারে খামেনির তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প তাঁকে একজন ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘তাঁর (খামেনি) উচিত দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করা ও মানুষ হত্যা বন্ধ করা। দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ইরান এখন বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য স্থানে পরিণত হয়েছে।’

তাঁর (খামেনি) উচিত দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করা ও মানুষ হত্যা বন্ধ করা। দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ইরান এখন বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য স্থানে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশনের মুখপাত্র ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরুর পর ইরানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প ইরানিদের ‘প্রতিষ্ঠানগুলো দখল’ করার ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘সাহায্য আসছে।’ তবে শুক্রবার ট্রাম্পের সুরে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। তিনি জানান, ইরানে ৮০০ জনের ফাঁসি বাতিলের সিদ্ধান্তকে তিনি ‘দারুণ’ সম্মান জানান। আগের দিন বৃহস্পতিবার ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তির দণ্ড কার্যকর করা হবে না। তবে ৮০০ জনের প্রাণ বাঁচানোর দাবির বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো সুনির্দিষ্ট উৎস উল্লেখ করেনি।

গত বুধবার এক মার্কিন কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদার এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় অতিরিক্ত সেনা ও সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। এর মধ্যে রয়েছে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, অতিরিক্ত বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্য মতে, বিক্ষোভে দমন-পীড়নের ফলে অন্তত ৩ হাজার ৯০ জন নিহত এবং ২২ হাজার ১২৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। সরকারি তথ্যের অনুপস্থিতিতে সংস্থাটি নিজস্ব সূত্রে এ পরিসংখ্যান তৈরি করেছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি গতকাল প্রথমবারের মতো বলেছেন যে বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর আগে কর্তৃপক্ষ কয়েক শ মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এবারই প্রথম ওই সংখ্যা সরকারিভাবে স্বীকৃত হলো। এদিকে গত বুধবার এক মার্কিন কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদার এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় অতিরিক্ত সেনা ও সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। এর মধ্যে রয়েছে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, অতিরিক্ত বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর আগে গতকালই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক কড়া ভাষণে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘উসকানিদাতাদের’ উৎসাহিত করার অভিযোগ আনেন। ইরানে সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে ওই দিনই মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।