# দোহায় শাহবাজ শরিফ
# ইরানী স্পিকারের সঙ্গে পাক সেনাপ্রধানের বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ করতে এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলই প্রকৃত সন্ত্রাসী। সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিক সফর শেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহাবাজ শরিফ কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন। এর বাইরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানী পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কথালিবাকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চীন বলেছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে যেভাবে সম্মান করা ও সুরক্ষিত রাখা উচিত সেভাবেই এই পানিপথ দিয়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচলের ব্যাপারে প্রস্তাব দিয়ে ইরান বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো প্রণালীর ওমান অংশ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ইরান ক্ষেত্রে হামলঅ করবে না। জিও নিউজ, গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা, রয়টার্স, সিএনএন, মিডল ইস্টআই।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফা বৈঠক নিয়ে যা বলল পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
এদিকে, চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির এখন ইরান সফরে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ‘নাজুক’ যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মুনিরের এই সফর ‘কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য কমাতে কার্যকর হয়েছে’।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক মতভেদ এখনো রয়ে গেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং দ্বিতীয় দফা আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।’
সৌদি সফর শেষে দোহায় শাহবাজ শরিফ
সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিক সফর শেষ করে কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এ খবর জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে পিএমও জানায়, দোহা পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও তার প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ বিন সুলতান আল-মুরাইখি।
বিমানবন্দরে পৌঁছালে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে অভ্যর্থনা জানায়। এ সময় বিমানবন্দর ও শহরজুড়ে পাকিস্তানের পতাকা দিয়ে সাজানো হয় বলেও জানায় পিএমও।
হরমুজ নিয়ে ইরানকে বার্তা দিল চীন
আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ওই আহ্বান জানান।
ফোনালাপে আরাঘচিকে ওয়াং ই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে যেভাবে সম্মান করা ও সুরক্ষিত রাখা উচিত, সেভাবেই এই পানিপথ দিয়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা-নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি বেশ জটিল একটি জায়গায় পৌঁছেছে। আমরা এখন সংঘাত এবং শান্তির মধ্যবর্তী একটি স্থানে আছি। এই স্থান থেকে শান্তিতে উত্তরণের পথ হতে পারে হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করে দেওয়া।’
ওয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং উভয়পক্ষের আলোচনায় ফিরে আসাকে চীন পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ওয়াং ইর এই আহ্বানের জবাবে আরাঘচি কী বলেছেন, সেই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কোনও তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের অনেক দেশের কাছে তেল বিক্রি করতে পারে না ইরান। ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। ইরানের মোট তেলের ৮০ শতাংশই কেনে বেইজিং।
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন প্রস্তাব ইরানের
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচলের ব্যাপারে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যদি প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ইরান সেক্ষেত্রে হামলা চালাবে না।
তবে এক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। ইরানি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি তখনই কার্যকর কিংবা বাস্তবায়নযোগ্য হবে— যখন ওয়াশিংটন তেহরানের দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। এই প্রণালীর উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের জন্য এই প্রণালীর গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ এই তিন দেশের জ্বালানি পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ দিয়ে আসে। সার, রাসায়নিক ও অন্যান্য পণ্যের পরিবহনের জন্যও এ প্রণালি প্রয়োজনীয়।
স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। এর ফলে জ্বালানি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ঘুরপথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে। বিশ্বের অনেক দেশেই বাড়ছে তেলের দাম, সরবরাহ সংকটও দেখা দিয়েছে।
এছাড়া ইরান অবরোধ জারি করার পর থেকে হরমুজে আটকা পড়েছে শত শত জাহাজ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজে কয়েক শ’ জাহাজ এবং ২ হাজারেরও বেশি ক্রু আটকা অবস্থায় আছেন।
বিশ্বজুড়ে হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করার দাবি প্রতিদিন জোরাল হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা।
ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইরানের বন্দর অবরোধ চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন হেগসেথ। তিনি বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে, কারণ ইরানের আর কোনো নৌবাহিনী নেই।হেগসেথ বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে সম্মত না হয় তবে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত।
ইরানকে সাহায্যকারী জাহাজও লক্ষ্যবস্তু করবে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন শীর্ষ জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, অবরোধের আওতাভুক্ত এলাকায় ইরানকে সহায়তাকারী জাহাজকে লক্ষবস্তু করবে যুক্তরাষ্ট্র।ওয়াশিংটনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।জেনারেল কেইন বলেন, ইরানকে সহায়তাকারী জাহাজ ছাড়াও ইরানি তেল বহনকারী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুর মধ্য অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আরও বলেন, অবরোধ ইরানের বন্দরে যাওয়ার বা সেখান থেকে আসা সব জাহাজের জন্য প্রযোজ্য এই অবরোধ মেনে না চললে বলপ্রয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র। ১৩টি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে মার্কিন বাহিনীকে কোনো জাহাজেই উঠতে হয়নি।অবরোধ শুধু ইরানের বন্দরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রে নয়।১০ হাজারের বেশি নাবিক, মেরিন এবং বিমানসেনা অবরোধ কার্যকর করছে।
ইউরোপে হয়তো ছয় সপ্তাহের জন্য জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে: আইইএ
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেছেন, ইউরোপের হয়তো ছয় সপ্তাহ কিংবা তার কিছু বেশি জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে শিগগিরই ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, আইইএ প্রধান ফাতিহ বিরোল এপির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে— যা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলছে।
ইরানি স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির বৃহস্পতিবার ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির বৃহস্পতিবার ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তবে দুই পক্ষের বৈঠকের বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
কালিবাফ গত শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
আসিম মুনির গতকাল উচ্চপর্যায়ের এক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল নিয়ে তেহরানে পৌঁছান।
ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানের সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়, তিনি সেখানে ‘আমেরিকার বার্তা এবং আলোচনার দ্বিতীয় দফার পরিকল্পনা’ পৌঁছে দিতে এসেছেন।
সফরের অংশ হিসেবে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
নিজেদের অত্যন্ত দামি ও সেরা গোয়েন্দা ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র
পারস্য উপসাগরে নিজেদের অন্যতম দামি ও আধুনিক একটি ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত ৯ এপ্রিল ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ মডেলের এ ড্রোন বিধ্বস্ত হয় বলে গত মঙ্গলবার নৌবাহিনীর সেফটি কমান্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইট রাডার ২৪’-এর তথ্য বলছে, ওই দিন ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটি থেকে ওড়ার পর পারস্য উপসাগরের ওপর নিখোঁজ হয়। এটি হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে ওড়ার সময় হঠাৎ রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত ৯ হাজার ফুটে নেমে আসে এবং একপর্যায়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ফ্লাইট ডাটায় দেখা যায়, ওড়ার সময় ড্রোনটি ‘৭৪০০’ সংকেত পাঠাচ্ছিল, যার অর্থ ড্রোনটির সঙ্গে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল বা চালকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর প্রায় ৭০ মিনিট পর এটি ‘৭৭০০’ সংকেত পাঠায়, যা জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। সবশেষে ৯ হাজার ২৫০ ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় এটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।
মার্কিন নৌবাহিনী ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি।
ড্রোনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নরথ্রপ গ্রামান এটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোয়েন্দা ও নজরদারি মনুষ্যবিহীন বিমান হিসেবে দাবি করে। জেট ইঞ্জিনচালিত এই ড্রোন টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি আকাশে উড়তে পারে।
ড্রোনটির পাল্লা ৮ হাজার ৫০০ মাইল। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কাছে থাকা সবচেয়ে বিরল বিমানগুলোর একটি। এর মাত্র ২০টি এ পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা), যা একটি এফ-৩৫সি স্টিলথ যুদ্ধবিমানের দামের দ্বিগুণেরও বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ পাড়ি দিল ইরানের সুপার ট্যাংকার
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা আরও একটি সুপার ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। এই প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলার মধ্যেই এ নিয়ে দ্বিতীয় মার্কিন নিষেধাজ্ঞাধীন ট্যাংকার হরমুজ পাড়ি দিল।
খালি অবস্থায় ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ‘আরএইচএন’ গতকাল বুধবার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা এলএসইজি ও কেপলারের তথ্যে এ খবর পাওয়া গেছে। ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল বহনে সক্ষম ট্যাংকারটি কোন দিকে যাচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি গতকাল জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের একটি সুপার ট্যাংকার চলমান অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। ট্যাংকারটি ইরানের ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলই ‘প্রকৃত সন্ত্রাসী’: ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির পরিপন্থী এবং অন্যায় বলে আখ্যায়িত করেছেন।
গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তারা দাবি করে যে আমরাই আসল সন্ত্রাসী। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারাই আসল সন্ত্রাসী।’