৩ এপ্রিল, আনাদোলু : পাঁচ বছরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে আক্রমণ করতে পারে রাশিয়া। এমনই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ব্লকটির প্রতিরক্ষা কমিশনার আন্দ্রিয়াস কুবিলিয়াস। এমনকি রাশিয়া ইতোমধ্যেই ইইউয়ের বিরুদ্ধে হাইব্রিড যুদ্ধ চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। রাশিয়া পাঁচ বছরের মধ্যে ইইউ দেশগুলোতে আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত এবং সক্ষম হতে পারে বলে বুধবার ব্লকটির প্রতিরক্ষা কমিশনার সতর্ক করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়ারশতে অনুষ্ঠিত ইইউ নিরাপত্তা ফোরামে বক্তৃতা দিতে গিয়ে আন্দ্রিয়াস কুবিলিয়াস যুক্তি দেন, রাশিয়া ইতোমধ্যেই ব্লকের বিরুদ্ধে হাইব্রিড যুদ্ধ চালাচ্ছে, যেমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, পোল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং ফিনল্যান্ডের সীমান্তে অভিবাসীদের অস্ত্রায়ন এবং বাল্টিক সাগরে সমুদ্রের তলদেশে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করা। রাশিয়া একটি যুদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং ফলস্বরূপ সমস্ত ন্যাটো সদস্যদের মিলিত অস্ত্রের চেয়েও বেশি অস্ত্র উৎপাদন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন: “আমরা যদি কিছু না করি, তাহলে শিগগিরই এই হাইব্রিড আক্রমণের পরে সামরিক আক্রমণও শুরু হতে পারে।”

কুবিলিয়াস আরও বলেন, “শিগগিরই (রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির) পুতিন সেই সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে প্রলুব্ধ হতে পারেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে: রাশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ন্যাটোর আর্টিকেল-ফাইভ (সম্মিলিত আত্মরক্ষার নীতি) চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। পাঁচ বছর বা তার কম সময়ের মধ্যে, রাশিয়া এক বা একাধিক ইইউ দেশ আক্রমণ করতে ইচ্ছুক এবং সক্ষম হতে পারে।” এই পটভূমিতে দুই সপ্তাহ আগে ইইউ প্রতিরক্ষার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি শ্বেতপত্র প্রস্তুত এবং উপস্থাপন করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন: “ইউক্রেনকে রক্ষা করার পাশাপাশি, শ্বেতপত্র বাস্তবায়ন ইউরোপের প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করবে।” প্রতিরক্ষার জন্য ইইউয়ের উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ব্যয় করা উচিত বলে কুবিলিয়াস এই বিষয়ে ঐক্য এবং ন্যাটোর সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, “কোনও একক সদস্য রাষ্ট্র একা রাশিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু একসাথে, আমরা পারব। ইইউ বিশ্বের বৃহত্তম একক বাজার। এবং ন্যাটো বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিরক্ষামূলক সামরিক জোট।” গত ১৯ মার্চ ইউরোপীয় কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত শ্বেতপত্রে গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা ঘাটতি পূরণ এবং প্রতিরক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী শিল্প ভিত্তি তৈরির সমাধান প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রতিরক্ষায় আরও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের বৃদ্ধির উপায়গুলো নিয়েও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।