রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ফেডারেল রিজার্ভ বা ফেড) একাধিক নীতিনির্ধারণী বৈঠক সামনে রেখে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কিছুটা দুর্বল হয়েছে মার্কিন ডলার। বৈঠকে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে, যদিও বিভক্ত কমিটির সিদ্ধান্তে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বুধবারের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা ও সুইজারল্যান্ডে চলতি সপ্তাহে নীতিগত বৈঠক রয়েছে। অবশ্য ফেড ছাড়া অন্য কোথাও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম।
বিশ্লেষকদের মতে, ফেড এবার “হকিশ কাট” দিতে পারেÍঅর্থাৎ সুদ কমালেও, বিবৃতিতে শিগগিরই তা আবারও হ্রাসের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত থাকতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীরা আগামী বছরে দুই বা তিন দফা সুদ কমানোর প্রত্যাশায় লাগাম টানলে মার্কিন ডলার আবার শক্তিশালী হতে পারে। তবে কমিটির ভিন্নমতের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হতে পারে।
বর্তমানে ইউরোর মান সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৬৬৩ ডলার। এছাড়া, নভেম্বরজুড়ে পতনের পর কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থানে থাকা ইয়েন শক্তিশালী হয়ে ঠেকেছে ডলারপ্রতি ১৫৫ দশমিক ২১ ইয়েনে।
অস্ট্রেলীয় ডলার গত আড়াই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৪৪৬৯ ডলারে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি, প্রবৃদ্ধি ও ব্যয় সংক্রান্ত শক্তিশালী তথ্যের কারণে সুদ কমানোর প্রত্যাশা কমেছে। মঙ্গলবার রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে। এএনজেড বলছে, নগদ সুদহার ৩ দশমিক ৬০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শক্তিশালী শ্রমবাজার তথ্য প্রকাশের পর কানাডীয় ডলার গত ১০ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ব্যাংক অব কানাডা বুধবার সুদ অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুদ্রাটির মান সোমবার ১ দশমিক ৩৮১৯ কানাডীয় ডলার প্রতি মার্কিন ডলারে স্থিতিশীল ছিল।
এছাড়া, নিউজিল্যান্ড ডলার শূন্য দশমিক ৫৭৮৪ এবং সুইস ফ্রাঁ শূন্য দশমিক ১ শতাংশ শক্তিশালী হয়ে হয় শূন্য দশমিক ৮০৩৪ মার্কিন ডলারে উঠেছে। নিম্ন মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় সুইজারল্যান্ডের সুদহার আরও কিছুদিন প্রায় একই অবস্থানে থাকতে পারে।
এদিন ব্রিটিশ পাউন্ড ১ দশমিক ৩৩৩৯ ডলারে এবং চীনা ইউয়ান ৭ দশমিক ০৬৮ ডলারে স্থির ছিল।