রয়টার্স : আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বন্ধে কূটনৈতিকভাবে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, ২০২১ সালে আফগানিস্তান তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তাদের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের অবসান ঘটানোর চেষ্টায় দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ সেখানে বৈঠকে বসেছে। চীনের পশ্চিম সীমান্তে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। এক সময়ের মিত্র থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া এই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করে আসছে চীন। দেশটি তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছে এবং গত মাসে একজন বিশেষ দূতকে সফরে পাঠিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং একটি দৈনিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয়ই চীনের মধ্যস্থতাকে গুরুত্ব এবং স্বাগত জানিয়েছে। তারা আবারও আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক, যা একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।
তবে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা কোথায় হয়েছে তা উল্লেখ করেনি। যদিও প্রতিবেশী দেশ দুটি এর আগে জানিয়েছিল, আলোচনা উত্তর-পশ্চিমের শহর উরুমকিতে হচ্ছে। মাও বলেছেন, চীন উভয় পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করতে এবং একটি মঞ্চ প্রদানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতা ও আলোচনার প্রসার ঘটাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, তিনটি দেশ যথাসময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করবে। গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনায় উভয় পক্ষের বহু মানুষ নিহত হয়েছে, যার প্রধান শিকার হয়েছে আফগানরা। ইসলামাবাদ আফগান তালেবানদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে হামলাকারী ইসলামপন্থী জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে, যদিও কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং এই জঙ্গিবাদকে তাদের প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে দাবি করে আসছে।