এএফপি,আল-জাজিরা, রয়টার্স

ইরানকে বছরের পর বছর তাঁর নিজের দেশ ছাড়াও বিশ্বের জন্য বড় হুমকি বলে বর্ণনা করে আসছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলের এ সতর্কবার্তা আমলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জুনে তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা করেন। কিন্তু হামলার পরও ইসরাইল সন্তুষ্ট হয়নি বলেই মনে হচ্ছে। দেশটির সরকার সম্ভবত ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল রোববার নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। আগামীকাল সোমবার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন তিনি। ইসরাইলি এক কর্মকর্তা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং এক দিন পর ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন। তবে তাঁদের সাক্ষাতের নির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে জানাননি তিনি। যদিও ট্রাম্প মধ্য ডিসেম্বরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বড়দিনের ছুটির সময় নেতানিয়াহু সম্ভবত ফ্লোরিডায় তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। এ বছর এটি হবে পঞ্চমবারের মতো নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর।

নেতানিয়াহুর সফর এমন এক সময় হচ্ছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা গাজা উপত্যকায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় ধাপে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে ওই বৈঠকে নেতানিয়াহু তেহরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ওয়াশিংটনকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এবার নেতানিয়াহুর লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প। শুধু ইসরাইলি কর্মকর্তারাই নন, তাঁদের মার্কিন মিত্ররাও আবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছেন। এবার তাঁদের দাবি, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রকে তৎক্ষণাৎ মোকাবিলা করতে হবে; যদিও বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে আরেকটি সংঘাত ট্রাম্পঘোষিত মার্কিন নীতির অগ্রাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রতি প্রকাশিত জাতীয় নিরাপত্তাকৌশল বলছে, এ অঞ্চল ‘সহযোগিতা, বন্ধুত্ব ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে উদীয়মান হচ্ছে’। এটি এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তাকৌশলে অগ্রাধিকার পাওয়া অঞ্চল নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এ সময়ে ইসরাইল এমন এক যুদ্ধের জন্য দেন দরবার করছে, যা ওয়াশিংটনকে আবার সংঘাতে টেনে আনতে পারে।