বিবিসি,রয়টার্স : চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দিতে আগামী সপ্তাহে বেইজিং যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এতে অংশ নেবেন বলে গতকাল বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ ও যুদ্ধের অবসানের ৮০ বছর পূর্তি উদযাপনের জন্য ৩ সেপ্টেম্বর আয়োজিত হবে 'ভিক্টরি ডে' কুচকাওয়াজ। বিশ্লেষকদের মতে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্য এই আয়োজন একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য, যিনি বেইজিংয়ের নেতৃত্বাধীন নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার পক্ষে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুতিন ও কিমসহ ২৬ জন রাষ্ট্রপ্রধান এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীন এ সময় শতাধিক যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নতুন সামরিক কাঠামোর সক্ষমতা প্রদর্শন করবে।

৭০ মিনিটব্যাপী এই অত্যন্ত সাজানো-গোছানো কুচকাওয়াজে ৪৫টি সামরিক ইউনিটের সেনা এবং যুদ্ধে অংশ নেওয়া প্রবীণ সাবেক যোদ্ধা তিয়ানআনমেন স্কোয়ার দিয়ে প্যারেড করবেন। এ সময় শি জিনপিং সরাসরি কুচকাওয়াজ পর্যবেক্ষণ করবেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের 'ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের' প্রশংসা করেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ১৯৫৯ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনও নেতা বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন। ২০১৫ সালের শেষ ভিক্টরি ডে কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়া শুধুমাত্র শীর্ষ কর্মকর্তা চো রিয়ং-হে-কে পাঠিয়েছিল। ২০১৯ সালে কিম দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সর্বশেষ বেইজিং সফর করেছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি তিনবার বেইজিং যান। বিশ্লেষকদের মতে, এ বছর পুতিন ও শির পাশে কিমের অবস্থান শুধু প্রতীকী নয়, বরং কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে চুক্তি করার চেষ্টা করছেন, তখন এই বৈঠক চীনা প্রেসিডেন্টকে বৈশ্বিক প্রভাব প্রদর্শনের সুযোগ দিচ্ছে। এই আয়োজনের আগে ট্রাম্পের সম্ভাব্য এশিয়া সফরের কথাও শোনা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউজ বলেছে, তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়েও আলোচনা করতে আগ্রহী। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে অন্য কোনও পশ্চিমা নেতা কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেইজিং মস্কোর যুদ্ধের সমালোচনা করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চীনকে রাশিয়াকে সাহায্য করার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে কিম রাশিয়াকে অস্ত্র ও সেনা সরবরাহ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। ২০১৯ সালের পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের মুখোমুখি হওয়ার এটি প্রথম সুযোগ হতে পারে। তবে সিউল এখনও প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণের ব্যাপারে কিছু বলেনি, শুধু পার্লামেন্ট স্পিকার যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছে।লি বারবার কিম জং উনের সঙ্গে সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গত সোমবার তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তির জন্য হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। কিন্তু উত্তর কোরিয়া লির প্রচেষ্টাকে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাকে উন্মাদ আখ্যা দিয়েছে।বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কুচকাওয়াজে লির যোগদান ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিম যদি প্রকাশ্যে তাকে উপেক্ষা করেন, তা সিউলের জন্য বিব্রতকর হবে। তাছাড়া রাশিয়া, বেলারুশ ও ইরানের প্রেসিডেন্টদের পাশে লির উপস্থিতিও সিউল এড়াতে চাইতে পারে।