আল-জাজিরা, এএফপি : বিশ্বের ব্যক্তিগত সম্পদের তিন-চতুর্থাংশই এখন শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের দখলে। সদ্য প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট ২০২৬-এ উঠে এসেছে এই চিত্র। আয়ের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা। যেখানে প্রায় ৫০ শতাংশ উপার্যনকারীর পকেটে যাচ্ছে ৯০ শতাংশ সম্পদ। পক্ষান্তরে দরিদ্রতম অর্ধেক মানুষ মোট আয়ের ১০ শতাংশেরও কম সম্পদের মালিক। এতে বলা হয়, সম্পদ ও আয় সবসময় এক সূত্রে গাঁথা নয়। কেউ উচ্চ-আয়ের হলেও ধনী নাও হতে পারেন। আবার কেউ বিপুল সম্পদের মালিক হলেও আয় কম হতে পারে। সম্পদ বলতে বোঝায় একজন ব্যক্তির মোট সম্পদের মূল্য- সঞ্চয়, বিনিয়োগ, জমি বা বাড়িঘর। অর্থাৎ ঋণ বাদে যা থাকে। অন্যদিকে আয় হিসাব করা হয় কর-পূর্ব উপার্জন থেকে, পেনশন বা বেকার ভাতা বাবদ কাটা অর্থ বিবেচনায় নিয়ে। ২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের হাতে ছিল ৭৫ শতাংশ বৈশ্বিক সম্পদ। মধ্যম ৪০ শতাংশের হাতে ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, আর দরিদ্রতম অর্ধেক মানুষের কাছে ছিল মাত্র ২ শতাংশ। ১৯৯০-এর দশক থেকে বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ প্রতিবছর প্রায় ৮ শতাংশ হারে বেড়েছে। যা দরিদ্র অর্ধেক জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ০.০০১ শতাংশ মানবজাতির অর্ধেকের চেয়েও তিন গুণ বেশি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। আয়ের ক্ষেত্রেও বৈষম্য তীব্র। ২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষ পায় ৫৩ শতাংশ বৈশ্বিক আয়। মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশ পায় ৩৮ শতাংশ। আর দরিদ্রতম ৫০ শতাংশ মানুষ পায় মাত্র ৮ শতাংশ।

অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য : জন্মস্থান এখনও নির্ধারক ভূমিকা রাখে একজন মানুষের আয় ও সম্পদ গঠনে। ২০২৫ সালে উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়া ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অঞ্চল। তাদের গড় সম্পদ বৈশ্বিক গড়ের ৩৩৮ শতাংশ। আর আয় ছিল ২৯০ শতাংশ। ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়াও বিশ্ব গড়ের উপরে অবস্থান করছে, তবে সাব-সাহারা আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ অংশ রয়ে গেছে অনেক নিচে। কোন দেশগুলোতে আয়ের বৈষম্য সবচেয়ে বেশি: রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বে আয়ের বৈষম্যে শীর্ষে। সেখানে শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষ আয় করে ৬৬ শতাংশ, আর দরিদ্র অর্ধেক মানুষ মিলে পায় মাত্র ৬ শতাংশ। লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, মেক্সিকো, চিলি ও কলম্বিয়াতেও শীর্ষ ১০ শতাংশ আয় করে মোট আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে ইউরোপের সুইডেন ও নরওয়েতে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা যায়। দরিদ্রতম ৫০ শতাংশ মানুষ সেখানে আয় করে প্রায় ২৫ শতাংশ, আর ধনী ১০ শতাংশের আয় ৩০ শতাংশের নিচে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো মধ্যম অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ায় আয়-বৈষম্য চিত্র মিশ্র। বাংলাদেশ ও চীনে কিছুটা ভারসাম্য থাকলেও ভারত, থাইল্যান্ড ও তুরস্কে শীর্ষ ১০ শতাংশ আয় করে মোট আয়ের অর্ধেকেরও বেশি।

কোন দেশগুলোতে সম্পদের বৈষম্য সবচেয়ে বেশি: সম্পদের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যপূর্ণ। শীর্ষ ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে মোট ব্যক্তিগত সম্পদের ৮৫ শতাংশ। দরিদ্র অর্ধেক মানুষের সম্পদের হিসাব নেতিবাচক। অর্থাৎ তাদের ঋণ সম্পদের চেয়েও বেশি।