সামাজিক সেবার মাস: রমজানকে কেন্দ্র করে ইথিওপিয়ায় দাতব্য কাজের জোয়ার বয়ে যায়। ‘আবু জর’ এতিমখানার মতো সংস্থাগুলো স্ট্রিট ইফতারকে ব্যবহার করে এতিম শিশুদের জন্য ফান্ড সংগ্রহ করে।

আবার ‘বাব আল-খায়ের’ নামের সংস্থাগুলো গৃহহীন ও দুস্থ মানুষের দ্বারে দ্বারে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়। ইথিওপিয়ার মুসলিমদের কাছে রমজান মানেই হলো ইমানের পরীক্ষা আর ত্যাগের উৎসব।

‘মাতারিয়া’র মহাদস্তরখান : কায়রোর উত্তর-পূর্বের এলাকা ‘মাতারিয়া’র ইফতার এখন বিশ্বজুড়ে আলোচিত। এখানে গত ১১ বছর ধরে (করোনা বাদে) আয়োজন করা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বড় গণ-ইফতার। মাতারিয়া এলাকার বাসিন্দারা কয়েকশ মিটার লম্বা দস্তরখান সাজান। হাজারো মানুষ একসঙ্গে বসে এখানে ইফতার করেন। মজার ব্যাপার হলো, এই বিশাল খাবারের আয়োজন কেবল কোনো সংস্থা নয়, বরং পাড়ার প্রতিটি ঘরের নারীরা বাড়ি থেকে রান্না করে নিয়ে আসেন। এখানে মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিষ্টানরাও খাবার তৈরিতে আর পরিবেশনায় হাত মেলান।

ইফতারিতে যা থাকে : মিসরিদের ইফতার শুরু হয় এক গ্লাস ঐতিহ্যবাহী শরবত দিয়ে। তাদের ইফতারের প্রধান আকর্ষণগুলো হলো:

কামার আল-দীন: শুকনা খুবানি বা অ্যাপ্রিকট দিয়ে তৈরি বিশেষ শরবত। এটি মিসরি ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ফূল মাদামেস: শিমের ডাল দিয়ে তৈরি এই খাবারটি ইফতার ও সাহরি দুই সময়েই খুব জনপ্রিয়।

কুনাফা ও কাতায়েফ: ময়দার খামির দিয়ে তৈরি ‘কুনাফা’ আর হিলাল বা চাঁদের আকৃতিতে তৈরি ‘কাতায়েফ’ মিসরের সিগনেচার রমজান ডেজার্ট। এগুলো ছাড়া মিসরিদের ইফতার পূর্ণ হয় না।

আচার: মিসরিরা বিশ্বাস করে টক-ঝাল আচার তাদের ক্ষুধাবর্ধক হিসেবে কাজ করে, তাই দস্তরখানে এক বাটি রঙিন আচার থাকা চাই-ই চাই।

‘ডিশ পার্টি’র নতুন ধারণা : বর্তমানে মিসরের মুদ্রাস্ফীতি আর আর্থিক টানাপড়েন তাদের চিরচেনা রমজানে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তারা এখন নতুন নতুন সাশ্রয়ী পদ্ধতি বের করেছেন।

ডিশ পার্টি: অনেক পরিবার এখন রেস্তোরাঁয় না গিয়ে পার্কে বা নীল নদের পাড়ে ‘ডিশ পার্টি’ করে। এখানে প্রতিটি পরিবার একটি করে পদ বাড়ি থেকে রান্না করে আনে, ফলে খরচ কম হয় কিন্তু পুনর্মিলনটা ঠিকই বজায় থাকে।

নীল নদের নৌকা: অল্প খরচে নীল নদের ছোট নৌকা বা ফেলুকায় বসে ইফতার করা এখন তরুণদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়।

অমুসলিমদের শ্রদ্ধা : মিসরের রমজানে এক অপূর্ব দৃশ্য হলো অমুসলিমদের অংশগ্রহণ। কায়রোতে একটি খ্রিষ্টান পরিবার কয়েক দশক ধরে ইফতারের জন্য কুনাফা ও কাতায়েফ বিক্রি করে আসছেন।

তারা কেবল ব্যবসাই করেন না, বরং পুরো মাস মুসলিমদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। অনেক অমুসলিম মিসরি রমজানে প্রকাশ্যে পানাহার থেকে বিরত থাকেন এবং ইফতারের সময় মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে দস্তরখানে যোগ দেন। (সমাপ্ত)