আনাদোলু এজেন্সি : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে কঠোর বার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং সতর্ক করে বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদ যদি কোনো ‘অননুমোদিত’ সামরিক অভিযানকে বৈধতা দেয়, তবে তা ওই অঞ্চলে ‘অন্তহীন দুর্দশা’ বয়ে আনবে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সৌদি আরব ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, যতক্ষণ না যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি অস্থিতিশীল থাকবে। ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যা সংঘাতকে আরও উসকে দেয়। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি দেশগুলোই এই ধরণের হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রথম শিকার হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বারুদ ঠাসা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেসিসহ ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর তেহরান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। ইরান বর্তমানে ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার্যত নিজের হাতে নিয়েছে। বর্তমানে তেহরান শুধুমাত্র তাদের ভাষায় ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জাহাজকেই এই পথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিচ্ছে। এর ফলে এশীয় দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এদিকে, ইরানের শিরাজ এলাকায় একটি চীনা ‘উইং লুং-২’ ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। চীন সরাসরি ইরানের বন্ধু রাষ্ট্র হলেও এই ড্রোনটি সৌদি আরব বা আমিরাতের হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। চীন নিজেই এখন এই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।