এপি, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল : ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করতে দেশটিতে একটি গণ-অভ্যুত্থানের পথ সুগম করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরাইল। এই লক্ষ্য অর্জনে গত কয়েক দিন ধরে ইরানের সেই ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা পালন করে আসছে এসব বাহিনী।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মতে, তাদের বিমান হামলাগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ওপর চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ-এর সদস্য থেকে শুরু করে গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও এই অভিযানে শামিল হয়ে দেশটির শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর তেহরান সদর দফতরসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থায় আঘাত হেনেছে।

জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর রক্তক্ষয়ী দমনে মূল ভূমিকা ছিল আইআরজিসি এবং বাসিজ মিলিশিয়াদের। সে সময় মিছিলে গুলি চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, যা সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ রাজনৈতিক দমনপীড়ন হিসেবে পরিচিত। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, তারা আকাশপথে ইরানের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এতটাই দুর্বল করে দিতে চান যাতে সাধারণ মানুষ রাজপথে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এর আগে তেহরানকে দুর্বল করতে ইসরাইল গোপন অভিযান চালালেও এখন তারা সরাসরি শাসক পরিবর্তনের (রেজিম চেঞ্জ) দিকে এগোচ্ছে।

সাম্প্রতিক হামলায় আইআরজিসি-র থারাল্লাহ সদর দফতর এবং দাঙ্গা দমনে নিয়োজিত বিশেষ পুলিশ ইউনিট ফারাজা-এর সদর দফতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে ফারাজা-র গোয়েন্দা প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ানের নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া কুর্দি অধ্যুষিত সানান্দাজ শহরে পুলিশ স্টেশন ও কারাগারগুলোতেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভেতর সরকারকে উৎখাত করতে অস্ত্র হাতে নিতে ইচ্ছুক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত। গত রবিবার তিনি কুর্দি নেতাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। ট্রাম্প ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দলত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমি আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী ও পুলিশকে অস্ত্র ত্যাগ করে পূর্ণ ক্ষমা পাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, অন্যথায় নিশ্চিত মৃত্যু অপেক্ষা করছে।

এদিকে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত সাত শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৫ জন শিশু রয়েছে, যাদের অধিকাংশই মেয়ে এবং তারা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার শিকার হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইরানে গত দুই মাসের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকাশপথের হামলা দিয়ে একটি শক্তিশালী স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন ঘটানো সহজ নয়। বাসিজ মিলিশিয়ারা এখনও রাস্তায় টহল দিচ্ছে এবং বেসামরিক মৃত্যু বাড়তে থাকলে সরকারি বাহিনীর জনপ্রিয়তা উল্টো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।