বিবিসি : কম্বোডিয়ার সঙ্গে বিতর্কিত সীমান্ত বরাবর বিমান হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ড। সোমবার (৮ নভেম্বর) থাই সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সকালে কম্বোডিয়ান বাহিনীর গুলিতে তাদের এক সেনা নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। এরপরই বিমান হামলা জালিয়েছে তারা। অবশ্য কম্বোডিয়ার দাবি, থাই বাহিনী আগে হামলা চালিয়েছে। দুই দেশই একে অপরকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গৃহীত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করার পর এই হামলা শুরু হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
থাই সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলের উবন রাতচাথানি প্রদেশের দুটি এলাকায় থাই সেনারা কম্বোডিয়ার হামলার মুখে পড়ে। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘থাই বাহিনী এখন বেশ কয়েকটি এলাকায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ব্যবহার করে আঘাত হানছে।’
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কয়েক দিনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ভোরে থাই বাহিনী তাদের দুই স্থানে হামলা চালায়। মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কম্বোডিয়ান বাহিনী পাল্টা হামলা চালায়নি।
থাই সেনাবাহিনীর অভিযোগ, থাই বেসামরিক এলাকাগুলোর দিকে বিএম-২১ রকেট নিক্ষেপ করেছে কম্বোডিয়ার সামরিক বাহিনী। তবে হতাহতের কোনও খবর দেয়নি।
সীমান্ত নিয়ে বিরোধ গত জুলাইয়ে পাঁচ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়, যা থামাতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। জুলাই মাসের সংঘর্ষে অন্তত ৪৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়। ওই সময় দুই পক্ষই রকেট ও ভারী গোলাবর্ষণে লিপ্ত হয়।
গত মাসে এক স্থলমাইন বিস্ফোরণে একজন সেনা গুরুতর আহত হওয়ার পর থাইল্যান্ড ঘোষণা করে যে তারা কম্বোডিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন স্থগিত করছে।
কম্বোডিয়ার প্রভাবশালী সাবেক নেতা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের বাবা হুন সেন বলেন, থাই সামরিক বাহিনী আক্রমণকারী এবং তারা কম্বোডিয়াকে উত্তেজিত করে পাল্টা হামলায় বাধ্য করতে চাইছে। তিনি কম্বোডিয়ান বাহিনীকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
থাইল্যান্ড বলেছে, সীমান্তের চারটি জেলায় ৩ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়ে রাখা হয়েছে।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্তের বেশ কিছু অনির্ধারিত স্থানের মালিকানা নিয়ে শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিরোধে লিপ্ত। ১৯০৭ সালে ফ্রান্সের তৈরি মানচিত্রে সীমান্ত প্রথম নির্ধারিত হয়, যখন কম্বোডিয়া ছিল ফরাসি উপনিবেশ।