অধিকাংশ ইরানী জনগণ বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচক হলেও বিদেশী হস্তক্ষেপ চায় না এবং তারা এ ব্যাপারে সতর্ক। এছাড়া অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় ওয়াশিংটনে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এদিকে কাতারের আল-উদেইদ এয়ার বেসে একটি নতুন কেন্দ্র ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যৌথ সমন্বয় করবে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অপর এক খবরে বলা হয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ধ্বংসাত্মক বিদেশী হস্তক্ষেপের কড়া নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এতে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ^ব্যাপী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে। এএফপি, আল-আরাবিয়া, মিডল ইস্ট আই, আরটি, রয়টার্স, আল-জাজিরা, আনাদুলো।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা নতুন বছরেও স্তিমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারসহ প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে শোরুম ও দোকানপাট বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা রাজপথে নেমে এসেছেন। মুদ্রাস্ফীতি এবং রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতনে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত। খোলা বাজারে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান ১৪ লক্ষ ২০ হাজারে নেমে আসায় থমকে গেছে পাইকারি বাজার ও আমদানি বাণিজ্য। এই অর্থনৈতিক ক্ষোভের মূলে রয়েছে গত গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ এবং তার ফলে তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ ও পানি সংকট, যা সরকারের কাঠামোগত ব্যর্থতাকে সাধারণ মানুষের সামনে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আন্দোলন এখন কেবল রুটি-রুজির লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। কয়েক দিনের ব্যবধানেই বিক্ষোভের শ্লোগানগুলোতে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও শাসনব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তেহরানের ‘রাস্তায় গাজা বা লেবাননের জন্য নয়, আমরা ইরানের জন্য বাঁচি’ এমন শ্লোগানগুলো দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি এবং আঞ্চলিক সংঘাতগুলোতে বিশাল ব্যয়ের বিরুদ্ধে জনগণের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষকে ফুটিয়ে তুলছে।
ইরানের দীর্ঘদিনের এই ধারাটি আবারও স্পষ্ট হচ্ছে, যেখানে ক্ষুদ্র কোনো অর্থনৈতিক সমস্যা দ্রুতই একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়, কারণ জনমানসে প্রতিটি সংকটের দায় সরাসরি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী মহলের ওপর বর্তায়।
তবে এই সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বহিঃশক্তির তৎপরতা। গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের সরাসরি যুদ্ধের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা বহুগুণ বেড়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বৈঠক পরবর্তী বার্তাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দমাতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাসিত শাহজাদা রেজা পাহলভিসহ বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠী ও প্রবাসী নেটওয়ার্কগুলো সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও ইরানের ভেতরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিদেশী মদতপুষ্ট আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি বৈঠক
এছাড়া ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় ওয়াশিংটনে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। এই বৈঠকেই নির্ধারিত হতে পারে ইরানে হামলার বিষয়টিও।
বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশিগানের ডেট্রয়েটে একটি অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সেখান থেকে এয়ারফোর্স ওয়ানে করে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে তিনি এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন কি না, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এর আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, খুনি ও নিপীড়কদের নাম সংরক্ষণ করতে হবে এবং তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানে সাধারণ মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, দেশটিতে চলমান এই সহিংসতায় এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীসহ অন্তত ৬৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের আল-উদেইদ এয়ার বেসে একটি নতুন কেন্দ্র খোলার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যেটি সমন্বয় করবে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সতেরোটি দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এই নতুন সামরিক স্থাপনায়। নতুন কেন্দ্রটির নাম হলো ‘মিডল ইস্টার্ন এয়ার ডিফেন্স কম্বাইন্ড ডিফেন্স অপারেশনস সেল (এমইএডি-সিডিওসি)’ এবং এটি কম্বাইন্ড এয়ার অপারেশনস সেন্টার (সিএওসি)-এর আওতায় পরিচালিত হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদার দেশগুলোর সেনা সদস্যরাও থাকবে। সেন্টকম-এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার বলেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সেলটি অঞ্চলের সেনারা কিভাবে প্রতিরক্ষা সমন্বয় করবে এবং দায়িত্ব ভাগাভাগি করবে তা উন্নত করবে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ইউএস এয়ার ফোর্স সেন্ট্রাল'র (এএফসিইএনটি) কর্মীরা অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ করবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে। তবে, সেই ব্যবস্থাগুলো প্রকৃত পক্ষে কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তাকে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত’ বলে বর্ণনা করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জানিয়েছে, এই দমন-পীড়নের ফলে বিক্ষোভ চলাকালে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের জাতিসংঘ মিশন এক্স-এ এক পোস্ট জানায়, ওয়াশিংটনের এই ‘কৌশল’ আবারও ব্যর্থ হবে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কল্পনা ও নীতির ভিত্তি হলো শাসন পরিবর্তন, যেখানে নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, পরিকল্পিত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলাকে কার্যপদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করা হয়।’
কাতারের বিমানঘাঁটি থেকে কর্মীদের সরে যাওয়ার পরামর্শ
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে আঞ্চলিক বাহিনীর প্রতি ইরানে হুমকির পর কাতারের রাজধানী দোহার কাছে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর আল উদেইদ ঘাঁটির কিছু কর্মীকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তিনজন কূটনীতিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও মার্কিন দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
ইরানে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা রাশিয়ার
রয়টার্স : ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ধ্বংসাত্মক বিদেশী হস্তক্ষেপের কড়া নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার হুমকিকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা বাইরের উসকানিতে সৃষ্ট অস্থিরতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি করার পরিকল্পনা করছে, তাদের অবশ্যই জানা উচিত যে এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে। উল্লেখ্য, এই বিবৃতি আসে এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের চলমান বিক্ষোভ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, প্রতিবাদ চালিয়ে যাও, সাহায্য আসছে এবং ইরানের ওপর আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দিয়েছেন।
নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যা বলল ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে অবৈধ এবং দেশটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘গভীরমূল প্রোথিত বিদ্বেষ’ থেকে উৎসারিত বলে বর্ণনা করেছে। বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব ব্যবস্থা ‘অমানবিক’ এবং জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই সতর্ক করে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইরানের সীমা ছাড়িয়ে যাবে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা এবং তিনি যাকে জোরপূর্বক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব জাতিসংঘ ও তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো ব্যবসা করলে তাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচারের ঘোষণা
এএফপি, রয়টার্স: ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া হলে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরই এমন ঘোষণা দিলো দেশটি। গতকাল বুধবার ইরানের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে কাজ করছেন তারা।
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসাইন মোহসেনি এজেয়ি একটি কারাগার পরিদর্শনের সময় বলেন, ‘যদি কেউ কাউকে হত্যা করে বা শিরশ্ছেদ করে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটায়, তবে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও জানান, এই বিচার প্রক্রিয়া প্রকাশ্য আদালতে হওয়া উচিত।
এর আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারা যদি এমন কিছু করে, তবে আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেবো।’ এ সময় তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতও দেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘সাহায্য আসছে’। যুক্তরাষ্ট্রের এই হুঁশিয়ারিকে সামরিক হস্তক্ষেপের ‘অজুহাত’ হিসেবে দেখছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বলেছে, ওয়াশিংটনের এই পরিকল্পনা আবারও ব্যর্থ হবে। তারা অভিযোগ করেছে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতেই যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
ইরানে হামলা চালানোর আগে ট্রাম্পকে
যেসব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সাথে আমেরিকার তিক্ত দ্বন্দ্বের এক নতুন অধ্যায়ের দিকে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সংকটের মুহূর্তে ইরানের বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করার জন্য মার্কিন সামরিক হামলার যুক্তি আরও জরুরি এবং বাধ্যতামূলক হয়ে উঠছে।
ইরানের নেতারা যদি গুলি চালানো শুরু করে, তাহলে তিনিও করবেন বলে তার পূর্বের সতর্কবাণী অমান্য করার পর ট্রাম্প নতুন নতুন লাল রেখা তৈরি করে চলেছেন। গত মঙ্গলবার সিবিএস নিউজের এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ইরান যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদ- দেয়, তাহলে তিনি ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেবেন। এটি মার্কিন সামরিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবে কেবল প্রতীকী দেখা যায় এমন যেকোনো যুদ্ধ অভিযান তেহরানের বিরুদ্ধে তার প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে।
‘প্রেসিডেন্ট ইরানি জনগণকে বলেছেন যে সাহায্যের পথে। এবং তাই, আমি মনে করি প্রেসিডেন্টের এখানে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া বাধ্যতামূলক,’ লিওন প্যানেটা গত ঙ্গলবার সিএনএন নিউজ সেন্ট্রালকে বলেন। প্রাক্তন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব এবং সিআইএ পরিচালক পূর্ণাঙ্গ সামরিক আক্রমণের প্রয়োজনীয়তা নির্দিষ্ট করেননি। কিন্তু তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা এখনই প্রয়োজন যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন দেখানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছু একটা করুক।’