আর্মি রিকগনেশন : রিপোর্টে জানা গেছে, পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাদের বিশাল 'টাইপ ৯৬এ' মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক বহরে অত্যাধুনিক 'জিএল-৬' অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (এপিএস) স্থাপন শুরু করেছে।গত ২ এপ্রিল ২০২৬-এ প্রকাশিত চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ফুটেজে ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের অধীনে থাকা ৭১তম গ্রুপ আর্মিতে এই উন্নত প্রযুক্তির ট্যাঙ্কগুলো দেখা গেছে। উল্লেখ্য, এই ইউনিটটি মূলত তাইওয়ান প্রণালীতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। এই উন্নয়নের গুরুত্ব কেবল একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংঘাত প্রমাণ করেছে যে, সস্তা ড্রোন এবং প্রিসিশন গাইডেড মিসাইলের সামনে দামী ট্যাঙ্কগুলোও অত্যন্ত অসহায়। চীনের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো তাদের বিশাল ও পুরনো ট্যাঙ্ক বহরকে সমসাময়িক যুদ্ধের উপযোগী করে তোলা।

জিএল-৬ ট্যাঙ্কের চারপাশে ৩৬০-ডিগ্রি নজরদারি চালাতে সক্ষম।এতে ইনফ্রারেড এবং অপটো-ইলেক্ট্রনিক সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে যা আগত ড্রোন বা রকেট শনাক্ত করতে পারে।হুমকি শনাক্ত করার পরপরই এই সিস্টেমটি পাল্টা ছোট ইন্টারসেপ্টর গোলা ছুড়ে দিয়ে শত্রুর মিসাইল বা ড্রোনকে মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয়।

কেন টাইপ ৯৬এ ট্যাঙ্ককে বেছে নেওয়া হলো: টাইপ ৯৬এ চীনের সবচেয়ে আধুনিক ট্যাঙ্ক না হলেও, এটি ওজনে হালকা (প্রায় ৪০ টনের আশেপাশে)। তাইওয়ান প্রণালীর মতো ভৌগোলিক পরিবেশে যেখানে সমুদ্রপথে ট্যাঙ্ক পরিবহন করতে হয়, সেখানে ভারী ট্যাঙ্কের চেয়ে টাইপ ৯৬এ-এর মতো হালকা ট্যাঙ্কগুলো উভচর ল্যান্ডিং শিপ বা হোভারক্রাফটে বহন করা অনেক সহজ। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা হওয়ার কারণে ল্যান্ডিং ক্রাফটের মাধ্যমে দ্রুত উপকূলে পৌঁছানো সম্ভব। এতে ১২৫ মিমি মেইন গান রয়েছে যা যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যুহ গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। জিএল-৬ যুক্ত হওয়ার ফলে এই ট্যাঙ্কগুলো এখন ড্রোন ও মিসাইল হামলা সহ্য করে দীর্ঘক্ষণ লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে।

যুদ্ধ কৌশলগত তাৎপর্য: পিএলএ-র এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে, তারা কেবল অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের ওপর নির্ভর না করে সংখ্যাতাত্ত্বিক শক্তিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির ট্যাঙ্ক তৈরির চেয়ে বিদ্যমান হাজার হাজার ট্যাঙ্ককে সুরক্ষা কবচে মুড়ে দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর এবং ব্যয়সাশ্রয়ী। ধারণা করা হচ্ছে, তাইওয়ান প্রণালীর সংঘর্ষে প্রথম পর্যায়ের আক্রমণের পর যখন সৈকতে পা রাখার জায়গা তৈরি হবে, তখন এই টাইপ ৯৬এ ট্যাঙ্কগুলো দ্রুত মোতায়েন করা হবে। ড্রোনের বিরুদ্ধে টিকে থাকার ক্ষমতা থাকায় এগুলো ল্যান্ডিং জোনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং আক্রমণের গতি বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (এপিএস) থাকলেও ট্যাঙ্কগুলো পুরোপুরি অপরাজেয় নয়। যদি একসাথে অনেকগুলো ড্রোন বা মিসাইল হামলা চালানো হয়, তবে সিস্টেমটি বিভ্রান্ত হতে পারে। আর্টিলারি শেলিং বা মাইন বিস্ফোরণ থেকে এই সিস্টেম সুরক্ষায় সীমাবদ্ধ। টাইপ ৯৬এ ট্যাঙ্কে জিএল-৬-এর সংযোজন কেবল একটি যান্ত্রিক আধুনিকায়ন নয়; এটি চীনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট বার্তা। বেইজিং এখন এমন এক বাহিনী তৈরিতে মন দিয়েছে যা একই সাথে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং সংখ্যার দিক থেকেও অপ্রতিরোধ্য।