সামা টিভি : জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ইরানকে নিখোঁজ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে এবং বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গ্রোসি বলেন, এই অচলাবস্থা অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। তার ভাষায়, এক সময় আমাকে বলতে হবে—আমি জানি না এই উপাদানগুলো কোথায় আছে। আইএইএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি—এমন ইরানের ঘোষিত ১৩টি পারমাণবিক স্থাপনা তারা পরিদর্শন করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নাতানজ, ফোর্দো ও ইসফাহান—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গ্রোসি বলেন, এসব স্থাপনায় কী ঘটেছে এবং ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়ামের বর্তমান অবস্থান কী—সে বিষয়ে ইরানকে একটি বিশেষ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। আইএইএর মানদণ্ড অনুযায়ী, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে তাত্ত্বিকভাবে প্রায় ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা রাখে। তিনি আরও বলেন, আপাতত উপাদান সরিয়ে নেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই, তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইরানের সহযোগিতা জরুরি। পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি প্রসঙ্গে গ্রোসি বলেন, এনপিটি মানা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়; এখানে পছন্দমতো বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। আইএইএ জানায়, গত সাত মাস ধরে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যাচাই করা যায়নি, যদিও নির্দেশনা অনুযায়ী মাসিক পরিদর্শনের কথা।

পরিদর্শন বিলম্বের কারণ হিসেবে গ্রোসি ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করেন। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত, ফলে শিগগিরই পরিদর্শন পুনরায় শুরু হতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন আইএইএ প্রধান। তিনি বলেন, নতুন কোনো সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ছাড়াই সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি। সর্বশেষ ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের কার্যকর পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করা হলেও বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো এখনো যাচাই বাকি। আগামী দিন বা সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান গ্রোসি।