রয়টার্স : ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন, পুতিনের যুদ্ধ থামানোর কোনও লক্ষণ নেই। কিন্তু যদি তিনি চুক্তিতে রাজি হনও, ইউক্রেনের দখলকৃত ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রেখে দিলে মস্কো আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার ডনবাসের বাকি অংশ দখলের দাবি পুরোপুরি বাতিলও করেনি। এদিকে, ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে রাশিয়ার সঙ্গে বড় আকারের ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হবে। ইউরোপের আশঙ্কা, রাশিয়া যদি আবার পশ্চিমা অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য ব্যাপক অর্থায়নের সু্যােগ পাবে। ইইউ পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা কালাস বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী বড় হলে এবং তাদের বাজেট এখনকার মতো থাকলে, তারা আবারও শক্তি প্রয়োগ করতে চাইবে।
ইউরোপের প্রভাব কম, কারণ পেশিশক্তি কম: ২০২২ সালের রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনকে ১৮০ বিলিয়ন ইউরো সহযোগিতা দিয়েছে ইউরোপ, কিন্তু তবুও তারা আলোচনার টেবিলে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারছে না। ইইউর বড় কার্ড হলো রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ। কিন্তু ১৪০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ প্যাকেজ হিসেবে ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে সেই সম্পদ ব্যবহার করার সিদ্ধান্তেও ঐকমত্য নেই। এর মধ্যে ফ্রান্স–ব্রিটেনের নেতৃত্বে কয়েকটি দেশ যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তার জন্য "রিএশিউরেন্স ফোর্স" গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
তবে রাশিয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া এমন একটি বাহিনীর কার্যকারিতা সীমিত হবে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের ক্লাউডিয়া মেজর বলেন, বছরের পর বছর সামরিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ না করার মূল্য এখন ইউরোপকে দিতে হচ্ছে। তারা টেবিলে নেই—কারণ ট্রাম্পের ভাষায়—তাদের হাতে কোনও ‘কার্ড’ নেই।