এক্সে, রয়টার্স : ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের কৌশলগত সুযোগসীমা সংকুচিত করতে পারে, যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী হুমকি এবং চীনের আঞ্চলিক সম্প্রসারণের কারণে সীমিত হয়ে এসেছে।
ইরানের ক্লেরিক্যাল নেতৃত্ব অর্থনৈতিক সমস্যা ও রাজনৈতিক ক্লান্তির কারণে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সামলাতে ব্যর্থ হওয়ার মধ্যে, ভারত ঘটনাগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নয়া দিল্লি ও তেহরান বহু বছরের কৌশলগত সহযোগী দেশ, যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাপ্যতা এবং ভারসাম্যের ওপর। পাকিস্তান আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দিকে ভারতের স্থলপথ বন্ধ রাখায়, ইরান দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের একমাত্র কার্যকর পশ্চিম দিকের করিডর হিসেবে কাজ করছে। ইরানের শিয়া নেতৃত্ব পাকিস্তানের প্রভাবকে ভারসাম্য দিয়ে এসেছে, যা ভারতের পশ্চিম এশিয়ার নীতির স্থিতিশীল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু ইরান দুর্বল বা ভাঙনের দিকে গেলে, ভারতকে আবারও কৌশলগতভাবে সীমিত করতে পারে।
ভারতের জন্য ইরানের গুরুত্ব
চাবাহার বন্দর: পাকিস্তান ভারতের জন্য আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার স্থলপথ বন্ধ রাখায়, চাবাহার বন্দর ভারতের পশ্চিম এশিয়ার সংযোগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এটি ভারতকে সরাসরি সংযোগ দেয় ইরানের উপকূল এবং রেলপথের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে এই করিডর কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে না।
পাকিস্তানের ভারসাম্য: ইরান ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের প্রভাবকে ভারসাম্য প্রদান করছে। শিয়া নেতৃত্ব পাকিস্তানের সুনি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সমালোচক, যা ভারতের স্বার্থে কাজ করেছে। ইরান দুর্বল হলে পাকিস্তান ঐ অঞ্চল থেকে কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে।
বাণিজ্য: ভারত ইরানের অষ্টম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, যেখানে বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১.৩–১.৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। চাবাহার প্রকল্পে ভারতের বিনিয়োগও এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তন এই বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
চীনের প্রভাব: ইরান চীনের সঙ্গে ২০২১ সালে ২৫ বছরের কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি করেছে। ২০২৫ সালে চীনের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য প্রায় ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার পৌঁছেছে। যদি ইরান অস্থির থাকে, নতুন সরকার চীনের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে, যা ভারতের কৌশলগত ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে।
ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ্ত: ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক নিরুপমা মেনন রাও বলেছেন, ভারতকে ইরানের পরিস্থিতি সম্পর্কে সংযত ও সাবধানে অবস্থান রাখতে হবে। প্রথমে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, এবং কৌশলগত প্রস্তুতি থাকতে হবে। কোনো সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়ো করে নেয়া উচিত নয়
তিনি আরও বলেছেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা বা বিভাজনের দিকে গেলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। শক্তি বাজার, শিপিং রুট, প্রবাসী সম্প্রদায়, সন্ত্রাসী ও অপরাধী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায়ও প্রভাব পড়বে। ভারতের কৌশল হওয়া উচিত- সংযত, স্থির এবং নিয়মিত মূল্যায়ন ভিত্তিক।