রয়টার্স,ডন,নিউজ এজেন্সি : ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সড়কের পাশে নামাজ আদায় করছিলেন এক ফিলিস্তিনি। সে সময় এক ইসরায়েলি ওই ফিলিস্তিনিকে গাড়ি দিয়ে সজোরে ধাক্কা দেন। এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্যালেস্টিনিয়ান টিভিতে সম্প্রচারিত ভিডিওটি যাচাইয়ের পর এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা । ভিডিওতে দেখা যায়, বেসামরিক পোশাক পরা এক ব্যক্তি কাঁধে বন্দুক ঝুলিয়ে একটি ‘অফ-রোড’ যান চালিয়ে রাস্তার পাশে প্রার্থনারত এক ব্যক্তির দিকে ছুটে গিয়ে তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেন। পরে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলেছে, ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবারের। সেদিন ইসরায়েলি একজন রিজার্ভিস্ট সেনা অধিকৃত পশ্চিম তীরে রাস্তার পাশে প্রার্থনারত এক ফিলিস্তিনি পুরুষকে তাঁর গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়েছেন। তার আগে ওই এলাকায় সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভিডিওতে সশস্ত্র এক ব্যক্তির একজন ফিলিস্তিনিকে গাড়ি চাপা দেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে। ওই ব্যক্তি একজন রিজার্ভিস্ট সেনা। এরই মধ্যে তাঁকে সামরিক পরিষেবা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।’ ওই রিজার্ভিস্ট সেনা ‘নিজের ক্ষমতার গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন’ স্বীকার করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাঁর অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই রিজার্ভিস্ট সেনাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যে ফিলিস্তিনিকে গাড়ি চাপা দেওয়া হয়েছিল, তিনি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। আঘাত গুরুতর না হওয়ায় তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা এ বছর ফিলিস্তিনিদের ওপর রেকর্ডসংখ্যক হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘ ২০২৫ সালকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে সহিংস বছরগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে। এ বছর অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ৭৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ফিলিস্তিনিদের বেশির ভাগই হয় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অভিযানে অথবা অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরাইল সত্যকে প্রধান শত্রু মনে করা: ইহুদিবাদী ইসরায়েল বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইসরায়েল সত্যকে তার প্রধান শত্রু বলে মনে করে। তারা গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে সাংবাদিকদের কার্যক্রম বিঘ্নিত করে গাজায় নিজের অপরাধের ভয়াবহতা আড়াল করতে চায়। ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট সম্প্রতি একটি অস্থায়ী আদেশ অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে ইসরায়েলের যোগাযোগমন্ত্রী শলোমো কারহিকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যাতে তিনি দখলকৃত ভূখণ্ডে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারেন। ইসরায়েল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আদিল ইয়াসিন শাহাবর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, "নেসেট যে আইনটি পাস হয়েছে, তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি বিপজ্জনক যুদ্ধের অংশ। এর মাধ্যমে ঐ মন্ত্রী অস্থায়ী জরুরি অবস্থা বা কোনো বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়াই বিদেশি সংবাদমাধ্যম বন্ধ করতে পারবেন।
ইয়াসিন বলেন, "ইসরায়েল গণমাধ্যমকে তার অন্যতম প্রধান শত্রু মনে করে, কারণ গাজায় গণহত্যা ও নির্মমতা পুরোপুরি তুলে ধরার ক্ষমতা রাখে। গত কয়েক বছরে ইসরায়েল এমন অনেক কৌশল গ্রহণ করেছে যাতে ইসরায়েলের সরকারি বয়ানের বিরুদ্ধে অন্য কিছু প্রকাশ না পায়।" তিনি আরও বলেন, "বিদেশি সাংবাদিকদের গাজা উপত্যকায় প্রবেশে বাধা দেওয়াটা আন্তর্জাতিক আইন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি গণতন্ত্রের বিষয়ে ইসরায়েলের দাবির অসারতার প্রমাণ। এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, "গণমাধ্যম বন্ধ এবং সাংবাদিকদের কাজ করতে না দেওয়া থেকে এটা স্পষ্ট, ইসরায়েল চায় না গাজায় যুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধ সম্পর্কে মানুষ জানতে পারুক। তারা সেখানে ১০ হাজার বেসামরিক মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।