যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়লেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে আলোচকরা ইরানীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ থাকার সময়কালে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর তথ্য ভা-ার হালনাগাদ ও পুরোপুরি সমৃদ্ধ করেছে। মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক ইরানী তেলের ট্যাংকার জব্দ করার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ হিসেবে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। আল-জাজিরা, তাসনিম নিউজ এজেন্সি, এপি, ফার্স নিউজ এজেন্সি, মিডল ইস্ট মনিটর, প্রেস টিভি, রয়টার্স, গালফ নিউজ, এএফপি।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে: শাহবাজ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়লেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ‘এখনো অব্যাহত রয়েছে’ বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ‘আমাদের ব্যাপক প্রচেষ্টার কারণে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, যা এখনো চলছে।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।’ এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আলোচকেরা ইরানীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, যুদ্ধের মধ্যে ইরান তাদের নেতৃত্বে নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কেবল এমন একটি চুক্তি করবেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা প্রাধান্য পাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রচ্ছন্ন হুমকির সুরে ইরানকে ‘বুদ্ধিমত্তা দেখানোর’ পরামর্শ দেওয়ার পরই হোয়াইট হাউস থেকে এই বিবৃতি দেওয়া হলো।

হামলার নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তু ঠিক করেছে ইরান: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র

ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ থাকার সময়কালে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডার হালনাগাদ ও পুরোপুরি সমৃদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জামের মানোন্নয়ন করেছে।

ইরান পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে মঙ্গলবার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, সেনাবাহিনী এই যুদ্ধকে শেষ বলে মনে করছে না।

ব্রিগেডিয়ার আকরামিনিয়া বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যখনই লড়াই থেমেছে ও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তখনই শত্রুপক্ষের ওপর অনাস্থার কারণে সেনাবাহিনী তাদের লক্ষ্যগুলো হালনাগাদ করা, লক্ষ্যবস্তুর তালিকা সম্পূর্ণ করা, প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা এবং যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে গেছে।

এই সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, সেনাবাহিনী তাদের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও মানোন্নয়ন উভয় কাজই করেছে এবং ইরানের জন্য পরিস্থিতি মূলত এখনো যুদ্ধকালীন অবস্থার মতোই রয়ে গেছে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, বাহিনীর নজরদারি, পর্যবেক্ষণ ও সরঞ্জাম সজ্জিত করার কার্যক্রম কোনো বিরতি ছাড়াই অব্যাহত রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, শত্রু যদি আবারও কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে তাদের ইরানের নতুন নতুন সামরিক সরঞ্জাম, কৌশল এবং লড়াইয়ের নতুন জায়গায় মোকাবিলা করতে হবে।

৭২ ঘণ্টায় মার্কিন অবরোধ ভেঙেছে ৫২টি ইরানী জাহাজ

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ৫২টি জাহাজ দেশটির পানিসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ ভেঙেছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।

স্থানীয় সময় গত সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত আগের তিন দিনের স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানানো হয়েছে। জাহাজগুলোর মধ্যে ৩১টি তেলবাহী ট্যাংকার ও ২১টি পণ্যবাহী জাহাজ।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ’ নিয়ে জাতিসংঘে সরব ইরান

মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক ইরানী তেলের ট্যাংকার জব্দ করার ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি গতকাল বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের এই বেআইনি পদক্ষেপ মোকাবিলায় ইরানের যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

সম্প্রতি ‘এমটি ম্যাজেস্টিক’ ও ‘এমটি টিফানি’ নামে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ৩৮ লাখ ব্যারেল তেল মার্কিন বাহিনী জোরপূর্বক জব্দ করার পর এই কূটনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়।

ইরানী রাষ্ট্রদূত তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, মার্কিন অ্যাটর্নির সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বিবৃতি থেকেই স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মাঝসমুদ্রে গায়ের জোরে জাহাজগুলো আটক করা হয়েছে। একে জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন এবং আগ্রাসনের শামিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। ইরাভানি সতর্ক করে বলেন, বৈধ বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এ ধরনের হামলা সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘিœত করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে। ইরান এই ঘটনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘আইনহীনতার নেশা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর দায়ভার সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের ওপর চাপিয়েছে।

৫৭ দিন পর সচল হলো ইরানের প্রধান বিমানবন্দর

দীর্ঘ ৫৭ দিন বন্ধ থাকার পর ইরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘ইমাম খোমেনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ আবার সচল হয়েছে। যুদ্ধের কারণে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় রাজধানী তেহরানের এ প্রধান প্রবেশপথটি দীর্ঘ দিন অচল ছিল। তবে দুই দিন আগে আকাশসীমা খুলে দেওয়ার পর আবার ফ্লাইট শুরু হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও বর্তমানে তা ১০ থেকে ১৫টিতে নেমেছে। তবে ধীরে ধীরে কার্যক্রম বাড়ছে এবং টার্মিনালগুলোয় যাত্রীদের ভিড় ফিরতে শুরু করেছে।