সংগ্রাম ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্নস্থানে ইসরাইলী হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫১ ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন। এ সময়ে উপত্যকাটিতে অপুষ্টি ও অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফিলিস্তিনের খান ইউনিসে কুয়েত ফিল্ড হাসপাতালের সামনে আশ্রয় নেয়া ফিলিস্তিনীদের তাঁবু লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করে ইসরাইলী বাহিনী। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। আহত ২১ জন। একই শহরে অপর এক হামলায় প্রাণ গেছে ৬ জনের। ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত ত্রাণকেন্দ্রে গুলীতে মারা গেছে কমপক্ষে ১২ জন। আল জাজিরা, রয়টার্স: আনাদোলু এজেন্সি।
গাজা সিটি দখলে বিমান হামলার পাশাপাশি ট্যাংক নিয়ে চলছে পদাতিক সেনাদের স্থল অভিযান। অঞ্চলটিতে হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা ইসরাইলী বাহিনীর। আটকা পড়ে আছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। এদিকে, গাজায় অনাহারে ও অপুষ্টিতে মৃত্যু হয়েছে আরও ১০ জনের। এদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এই নিয়ে গাজায় অনাহারে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৩ জনে। এছাড়া তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে আরও এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু। গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরাইলী আগ্রাসনে প্রাণহানি ঘটেছে ৬৩ হাজারের কাছাকাছি।
মার্কিন ভোটারদের অর্ধেকের বিশ্বাস ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক ভোটার বিশ্বাস করেন যে ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। গত বুধবার প্রকাশিত কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জরিপে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন ভোটারদের ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই চান না যে ওয়াশিংটন ইসরাইলকে আরও সামরিক সহায়তা পাঠাক। জরিপ অনুযায়ী, যারা মনে করেন গণহত্যা ঘটছে তাদের মধ্যে ৭৭ শতাংশই ডেমোক্র্যাট ভোটার। রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ প্রায় ৬৪ শতাংশ মনে করেন ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে না। যদিও ২০ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন এটি গণহত্যা। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা শুরু করেছে। কুইনিপিয়াকের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনীদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ইসরাইলীদের প্রতি সহানুভূতিশীল মার্কিন ভোটাররা প্রায় সমানভাবে বিভক্ত। কারণ ৩৭ শতাংশ বলেছেন তারা ফিলিস্তিনীদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল। আর ৩৬ শতাংশ বলেছেন তারা ইসরাইলীদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল।
কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জনমত জরিপ বিশ্লেষক টিম মালয় এক প্রেস রিলিজে বলেছেন, “ফিলিস্তিনীদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে, আর ইসরাইলকে সামরিকভাবে সহায়তা করার আগ্রহ তীব্রভাবে কমছে। আর ইসরাইল যেভাবে গাজা অভিযানে এগোচ্ছে, তার একটি কঠোর মূল্যায়ন কুখ্যাত এক শব্দকে সামনে নিয়ে আসছে।” এই জরিপে এক হাজার ২২০ জন স্ব-পরিচিত নিবন্ধিত ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনেছে, যদিও দেশটির সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পদকজয়ী ফিলিস্তিনী অ্যাথলেটকে গুলী করে হত্যা করল ইসরাইল
ইসরাইলী সেনাদের গুলীতে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিনী দৌড়বিদ আল্লাম আল-আমুর। গত বুধবার ত্রাণ সংগ্রহের চেষ্টা করার সময় তিনি গুলীবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। আল্লাম আল-আমুর ছিলেন প্রতিশ্রুতিশীল ক্রীড়াবিদ। ২০২৩ সালের মার্চে দোহায় অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট এশিয়া ক্লাবস অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে তিন হাজার মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। ওই আসরে ১২ দেশের ২৫০ জন অ্যাথলেট অংশ নিয়েছিলেন। প্রথমবারের অংশগ্রহণেই পদক এনে দেশকে গর্বিত করেছিলেন এই তরুণ। তার পরিবার জানায়, ‘আমেরিকান ত্রাণকেন্দ্র’ নামে পরিচিত একটি স্থানের কাছে ইসরাইলী সেনাদের গুলীতে প্রাণ হারান আল্লাম।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা অবিরাম যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এরপর থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় ৬৩ হাজার ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো গাজা উপত্যকা, দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্যসংকট। জাতিসংঘের মতে, গাজা এখন প্রায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।