মার্কিন এফ-১৫ ভূপাতিত

প্রথম চারদিনেই বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক ক্ষতির মুখে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে সর্ববৃহৎ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রথম চারদিনেই বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক ক্ষতি অর্থাৎ ২০০ কোটি ডলার মূল্যের সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। ইরানী সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট গতকাল বুধবার মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। এছাড়া ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সদর দফতর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সর্ববৃহৎ সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদসহ একাধিক দেশে অবস্থিত ঘাঁটি ও দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন হাজার মার্কিন নাগরিক। শেষ বিদায় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। এএফপি, আনাদুলো, এপি, আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান।

আরও একটি মার্কিন এফ-১৫ ভূপাতিত

আরও একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। গতকাল বুধবার দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানি সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট যুদ্ধবিমানটিকে গুলী করে ভূপাতিত করেছে।

এর আগে গত সোমবার ইরানের খাদেম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার জানিয়েছিল, ইরানের স্থানীয়ভাবে তৈরি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমান ও পাইলটদের নির্বাসন (ইজেকশন) সম্পর্কিত নানা ছবি প্রকাশিত হচ্ছে।

গত সোমবার সকালেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক ‘চমৎকার অভিযানে’ ইরান-কুয়েত সীমান্ত অঞ্চলের আকাশে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলী করে নামায়। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার পরপরই যুদ্ধবিমানটির পতন ও কুয়েতের ভূখ-ে বিধ্বস্ত হওয়ার দৃশ্য সম্বলিত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বহু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সদরদপ্তরে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার দাবি

ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) সদরদপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে উত্তর ইসরাইলের একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার গভীর রাতে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত আইএআইর সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইরানপন্থী লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী দাবি করেছে, লেবাননের কয়েক ডজন শহর ও জনপদে ‘ইসরাইলী অপরাধমূলক আগ্রাসনের’ জবাবে রাত ২টার দিকে অধিকৃত ফিলিস্তিনের কেন্দ্রে অবস্থিত আইএআই সদরদপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানো হয়।

পৃথক এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, ভোরের কিছু আগে উত্তর ইসরাইলের একটি ‘ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মনুষ্যবিহীন ড্রোন, স্যাটেলাইট ও মহাকাশ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও বেসামরিক পণ্য উৎপাদন করে থাকে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসরাইলের অত্যাধুনিক হার্মিস ৯০০ ড্রোন অক্ষত নামানোর দাবি ইরানের

ইসরাইলের একটি অত্যাধুনিক হার্মিস ৯০০ ড্রোন অক্ষত অবস্থায় নামানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সফলভাবে একটি ইসরাইলী হার্মিস ৯০০ ড্রোন জব্দ করেছে।

আইআরজিসির দাবি, হামলা পরিচালনার আগেই ড্রোনটিকে গুলী করে মাটিতে নামানো হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ড্রোনটি অক্ষত এবং সম্পূর্ণ সশস্ত্র অবস্থায় নামানো হয়েছে। বর্তমানে এটি তাদের বিমান বাহিনীর মহাকাশ ইউনিটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের জন্য ড্রোনটি মহাকাশ বিশেষজ্ঞ এবং প্রকৌশলীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসফাহান, তাবরিজসহ বিভিন্ন প্রদেশে ছয়টি উন্নত ‘হার্মিস’ ড্রোনকে বিধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট প্রায় ৩৫টি শত্রু ড্রোনকে গুলী করে ভূপাতিত করেছে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন সামরিক ক্ষতি ২ বিলিয়ন ডলার

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের প্রথম চার দিনেই বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেখানে থাকা মার্কিন রাডার সিস্টেম এএন/এফপিএস-১৩২ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্প এলাকায় স্থাপিত অত্যাধুনিক থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণেও সেখানে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রাডারটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রবিবার কুয়েতে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ভুলবশত এগুলো ভূপাতিত করে। এতে ৬ জন ক্রু সদস্য প্রাণে বাঁচলেও প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তিনটি বিমানই বিধ্বস্ত হয়েছে।

বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দফতরেও হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল (এএন/জিএসসি-৫২বি) ধ্বংস হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের এসব হামলা কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, এরবিল বিমানবন্দর, জেবেল আলি বন্দর এবং রিয়াদ ও দুবাইয়ের মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েতের আরিফজান ক্যাম্পে হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন ৯ হাজার মার্কিন নাগরিক

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবারও ইরানের রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বোমা বর্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। যুদ্ধের চতুর্থ দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনার সময় এখন পার হয়ে গেছে, এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। চার দিনের এই সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে কয়েক শ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৬৫ জন শিশু ও স্কুলকর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনাও নিহত হয়েছেন।

পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা এবং মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এদিকে তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর ইসরাইল লেবাননের আরও ভেতরে সেনা পাঠিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মার্কিন নাগরিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটের পাশে ড্রোন হামলার খবরও নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ড্রোনটি কনস্যুলেট ভবনের পাশে একটি পার্কিং লটে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে দূতাবাসের সব কর্মী নিরাপদ আছেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা কংগ্রেস সদস্যদের সামনে ইরান যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। রুবিও ছাড়াও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রথমে ১০০ সদস্যের সিনেট এবং পরে ৪৩২ সদস্যের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এ বিষয়ে ব্রিফিং করবেন।

সিনেট এবং হাউস উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং তারা ট্রাম্পের নীতিগুলোর প্রতি জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরুর পর রিপাবলিকানদের কেউ কেউ ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়ে বলছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের বিদেশে সেনা পাঠানো উচিত নয়।

মার্কিন হামলায় ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজডুবি, নিহত ৮০

ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। টর্পেডো দিয়ে সাবমেরিনটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী স্থানীয় টেলিভিশনকে জানান, জাহাজটি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর থেকে ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে ইরানে ফিরছিল।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানে হামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, যে যুদ্ধজাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেকে নিরাপদ ভেবেছিল।’

এ সময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইরানের ওপর হামলা তার দেশ ও ইসরাইল কেবল শুরু করেছে; সামনে এ ধরনের আরো বড় আকারের হামলা আসছে।

পিট হেগসেথ বলেন, যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে অর্থাৎ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের আকাশসীমার ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার আশা করছে মার্কিন ও ইসরাইলী বাহিনী।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আরো সেনা পৌঁছাচ্ছে। এই যুদ্ধে জয় নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সময় নেবে।

তিনি বলেন, ‘এটি খুবই প্রাথমিক পর্যায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটি বলেছেন, সফল হওয়া নিশ্চিত করতে আমাদের যতটুকু সময়ের প্রয়োজন, আমরা ততটুকু নেব।’

তুরস্কের ভূখ- লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

ইরান থেকে তুরস্কের ভূখ- লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আঙ্কারা। তবে ওই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তুরস্কের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমায় ধ্বংস করেছে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এক বিবৃতিতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইরান থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল; যা ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের দিকে আসছিল। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সেটিকে শনাক্ত এবং আঘাত হেনে অকেজো করে দেয়।’

উল্লেখ্য, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে ইরান।