* যুক্তরাষ্ট্রকে অচল করে দেয়ার হুমকি আইআরজিসির

* নিহত ২০০ ইসরাইলী ॥ আহত ৪৮ জন

* চোরাবালিতে আটকা ট্রাম্প

* যুদ্ধ বন্ধে সম্মতি প্রশ্নে ইরানের অস্বীকৃতি

* পতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র চালানোর পর ইসরাইলও অন্যত্র আঘাত হানার তথ্য আসছে

ইরান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ নিয়ে বিশেষ বার্তা পেয়েছে তেহরান। তবে কয়েকটি বন্ধু রাষ্ট্রের মাধ্যমে এই অনুরোধ এসেছে বলে ইরান জানিয়েছে। এদিকে সমঝোতামূলক সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে আলোচনার আয়োজন করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত এবং সেই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য আলোচনায় পাকিস্তান যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। এছাড়া ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। এরপর ইসরাইলের ৫টি শহরে ইরানের হামলায় ২০০ ইহুদি নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরাইলের আরাদ, ডিমোনা, ইলাত, বিরশেরা ও কিরিয়াত খ্যাত শহরের সামরিক স্থাপনা এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইরান বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। এ পর্যন্ত ৪২৯ জন আহত হয়েছে। এছাড়া আইআরজিসি ৭৮তম দফায় প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র চালানোর পর ইসরাইলও অন্যত্র আঘাত হানার তথ্য আসছে। এএফপি, আল-জাজিরা, রয়টার্স, সিএনএন, জেরু সালেম পোস্ট।

যুদ্ধ বন্ধে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অনুরোধ পাওয়া গেছে: ইরান

ইরান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ নিয়ে বিশেষ বার্তা পেয়েছে তেহরান। সরাসরি নয়; বরং কয়েকটি বন্ধুরাষ্ট্রের মাধ্যমে ওয়াশিংটন এ আলোচনার অনুরোধ পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।

এর আগে গত সোমবার ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জোরালো আলোচনা’ হয়েছে এবং দুই পক্ষ ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে একমত’ হতে পেরেছে।

ট্রাম্পের দাবি, তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অত্যন্ত আগ্রহী। ’ তবে সমঝোতায় না এলে ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান ‘আগ্রাসনকারীদের পূর্ণাঙ্গ ও অনুশোচনামূলক শাস্তি’ নিশ্চিত চায়। আর এই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের কর্মকর্তারা তাদের সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের পাশে অটল থাকবেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক ইস্যুতে সম্ভাব্য আলোচনায় পাকিস্তানে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধি দল

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। ওই ইসরাইলী কর্মকর্তা বলেছেন, ‘পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইরান ও আমেরিকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।’

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মোটামুটি দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এই অগ্রগতির পেছনে অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়াতে সহায়তা করেছে ইরানের প্রতিবেশী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ আসিম মুনিরের দেশ পাকিস্তান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূতিয়ালি করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে, এখন জানা যাচ্ছে শিগগির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হবে এবং এর ভেন্যু হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরাইলী ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তানে হতে যাওয়া ওই সম্মেলনের আলোচনার অংশ হিসেবে একটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স আমেরিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন।’

যুদ্ধ অবসানে বৈঠক আয়োজনে প্রস্তুত পাকিস্তান

বিবদমান সব পক্ষ চাইলে চলমান সংঘাতের সমঝোতামূলক সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে আলোচনার আয়োজন করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে ভালো আলোচনা চলছে বলে মন্তব্যের পর গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তান এই তথ্য জানিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি বলেছেন, ‘‘যদি পক্ষগুলো চায়, তাহলে ইসলামাবাদ সব সময়ই আলোচনার আয়োজন করতে ইচ্ছুক। এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে কথা বলে আসছে।’’

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অচল করে দেওয়ার হুমকি আইআরজিসির

মার্কিন সামরিক বাহিনী যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অচল’ করে দেবে তেহরান। একই সঙ্গে আরব উপসাগরে থাকা মার্কিন সব জাহাজকে ‘ডুবিয়ে’ দেবে ইরানের সামরিক বাহিনী।

গতকাল মঙ্গলবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দেশটির প্রভাবশালী ‘এক্সপেডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য মহসেন রেজায়ি ওই হুমকি দিয়েছেন।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘আমেরিকাকে বাঁচানোর চূড়ান্ত সময় ঘনিয়ে আসছে’’ এবং এই জলাভূমি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্ধারের খুব বেশি সময় বাকি নেই।

হুমকির পরও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা

যদিও ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার ইরানের ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দু’টি গ্যাস স্থাপনা এবং একটি পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ বলেছে, ইহুদিবাদী ও মার্কিন শত্রুদের চলমান হামলার অংশ হিসেবে ইসফাহানের কাভেহ স্ট্রিটে অবস্থিত গ্যাস প্রশাসন ভবন এবং গ্যাস প্রেশার রেগুলেশন স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

আমেরিকায় তেলের দাম ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প দায়ী: সিনেটর চাক শুমার

এক মাসেরও কম সময়ে আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এ জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে শুমার এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “এক মাস আগেও দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল ২ দশমিক ৯৩ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য কেবল একজন মানুষই দায়ী, আর তিনি হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।”

যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলে ৪,৮২৯ জন আহত হয়েছেন, দাবি তেল আবিবের

ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪,৮২৯ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ইসরাইলে আহত এ ব্যক্তিদের মধ্যে ১১১ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং ১২ জনের অবস্থা গুরুতর।

ইরাকে বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৫, অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে

ইরাকের আনবার প্রদেশে শিয়া পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এর একটি অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পিএমএফের আনবার অঞ্চলের অপারেশনস কমান্ডারও রয়েছেন।

একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

পিএমএফ তাদের আনবার কমান্ডার সাদ আল-বাইজি এবং আরও ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। এ হামলার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যখন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তাদের একটি কমান্ড সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা চালানো হয়।

যুদ্ধ বন্ধে উভয়পক্ষই চুক্তি করতে সম্মত হয়েছি: ট্রাম্প

ইরান অস্বীকার করলেও আলোচনা হয়েছে বলে অব্যাহতভাবে দাবি করে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি বললেন, উভয়পক্ষ যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি করতে রাজি হয়েছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছেন, উভয়পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। ইরানের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও ট্রাম্প যোগ করেছেন যে, তিনি কোনো চুক্তির গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, যদি কোনো চুক্তি হয়, তবে তা ইরান এবং এই অঞ্চলের জন্য একটি দুর্দান্ত সূচনা হবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় ‘প্রধান বিষয়গুলোতে ঐকমত্য’ হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানের যে আলোচনার কথা তিনি দাবি করছেন, সেখানে উভয় পক্ষ ‘প্রধান প্রধান পয়েন্টগুলোতে একমত’ হয়েছে।

তেহরানের অস্বীকৃতি

যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে তেহরান থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

১০ ঘণ্টারও কম সময়ে ৭ দফায় ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

ইরান ১০ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরাইলে ৭ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গত মধ্যরাত থেকে এই হামলা শুরু করে তেহরান। ইসরাইল বলছে, ৭ দফার মধ্যে সর্বশেষ দফায় ডিমোনা শহরে হামলা চালায় তেহরান। হামলা হয়েছে তেল আবিবেও।ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে হামলার পর দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সেখানে উদ্ধার কর্মী পাঠায়। তেল আবিবের হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, আগুন এবং কালো ধোঁয়া দেখা যায়। অন্যদিকে, ইসরাইলও ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত রাতে দিকে ইসরাইলী বিমান বাহিনী ৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তু হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। আইডিএফ বলছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে তিন হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে ইসরাইল।

ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো’ আলোচনা হয়েছেÑ ট্রাম্পের দাবির পর ইসরাইলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইসরাইলের তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই শহরের বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, এমন একটি স্থানে ছয়জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলায় মধ্য তেল আবিবে একটি ভবন ও এর সংলগ্ন রাস্তামারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে বেশ কিছু গাড়িতে আগুন ধরে যায়।এ ছাড়া রশ হেইন এলাকায় ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হারেৎজ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।ইসরাইলী হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানায়, এ হামলার আগে আজই ইসরাইল লক্ষ্য করে তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। দেশটির উত্তরাঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।এসব হামলা এমন এক সময় চালানো হলো, যখন ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুবই ভালো’ আলোচনা হয়েছে। যদিও তার এ দাবি মিথ্যা কথা বলে নাকচ করে দিয়েছে ইরান।

আলী লারিজানির বিকল্প কে এই বাকের জোলকাদর

ইরানের নতুন জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান বাকের জোলকাদর দেশটির বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ এক সেনানি। ইসরাইলের হামলায় আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তার দায়িত্বে আনা হলো বাকের জোলকাদরকে। বাকের জোলকাদর বিভিন্ন সময়ে সামরিক, বেসামরিক এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শীর্ষপর্যায়ের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।ইরান-ইরাক যুদ্ধে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একটি ডিভিশন পরিচালনা করার পর তার উত্থান ঘটে। ওই সময় তাকে ইরাকের কুর্দিসহ সীমান্তবর্তী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।এরপর কয়েক বছরের জন্য বিপ্লবী গার্ডের সেকন্ড-ইন-কমান্ড হয়ে ওঠেন বাকের জোলকাদর। দায়িত্ব পান। এই কাউন্সিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে পরামর্শ দেয় এবং দেশটির পার্লামেন্ট ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে মধ্যস্থতার কাজ করে।

এবার মার্কিন তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

ইরানে যৌথভাবে আগ্রাসন চালাচ্ছে গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলা শুরুর পর থেকে একের এক বিস্ফোরণের ঘটনা সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে। এবার নতুন করে মার্কিন মুলুকে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস উপসাগরীয় উপকূলে একটি তেল শোধনাগারে বিশাল বিস্ফোরণের কারণে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের সৃষ্টি হয়েছে। এতে আকাশে ধোঁয়ার কু-লী ছড়িয়ে পড়ে এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, একটি শিল্প হিটারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, টেক্সাসের পোর্ট আর্থারে অবস্থিত ভ্যালেরো তেল শোধনাগারে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ এবং ভয়াবহ অগ্নিকা- ঘটেছে। এতে আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল হিটার বা শিল্প হিটারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এতে কোনো নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শোধনাগার কর্তৃপক্ষ এবং পোর্ট আর্থারের মেয়র শার্লট এম. মোজেস নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনায় কোনো শ্রমিক বা সাধারণ মানুষ আহত বা নিহত হননি। সব কর্মীর হিসাব পাওয়া গেছে।

ইরানের চোরাবালিতে আটকা ট্রাম্প

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ‘অত্যন্ত ভালো এবং ফলপ্রসূ কথোপকথন’ হয়েছে বলে দাবি করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই তারা এই অস্বীকৃতি জানান।

গত সোমবার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।’

এক্সের পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের চোরাবালিতে আটকা পড়েছে। তা থেকে বাঁচতে ‘ফেক নিউজ’ ব্যবহার করছেন ট্রাম্প।

ইসরাইলে আঘাত হানছে ইরানের একের পর এক ‘কদর’ ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ৭৮তম দফায় প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র চালানোর পর ইসরাইলে আঘাত হানার তথ্য সামনে আসছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উত্তর ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর হাইফা শহরে একটি ক্লাস্টার বোমা (গুচ্ছ বোমা) একটি বাড়িতে আঘাত হেনেছে। এই হামলায় উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

আইআরজিসি নতুন দফায় হামলার পর এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে,আবার তারা ইসরাইলে গুচ্ছ বোমা দিয়ে সাজানো কদর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

আরেকটি ভয়ঙ্কর রাত দেখল ইসরাইল

কিছুক্ষণ আগে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, তবে এটি একটি খোলা জায়গায় পড়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলী সামরিক বাহিনী আগেভাগেই এটি শনাক্ত করে সতর্কতা জারি করেছিল, যার ফলে তেল আবিব এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশে সাইরেন বেজে ওঠে।