আল-জাজিরা, এএফপি

সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্র। গত সোমবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে ওই দেশগুলো বলেছে, ইসরায়েলের পদক্ষেপ শুধু সোমালিয়ার অখ-তাই নষ্ট করবে না; বরং গাজার ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক ওই অঞ্চলে নির্বাসিত করার পথও তৈরি করতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৪টিই ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। শুধু ব্যতিক্রম ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ইসরায়েলের নিন্দা না জানালেও স্পষ্ট করেছে যে, সোমালিল্যান্ড প্রশ্নে তাদের নিজস্ব অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। গত সপ্তাহে বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে।

ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বিতাড়িত করে সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর যে আলোচনা আগে হয়েছিল, এ স্বীকৃতি সেই শঙ্কাকেই আরও বাড়িয়ে দিল। বৈঠকে সোমালিয়ার রাষ্ট্রদূত আবু বকর দাহির ওসমান ইসরায়েলের পদক্ষেপকে আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘গাজার বাসিন্দাদের নিজ ভূখ- থেকে বিতাড়িত করে জোরপূর্বক সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে (সোমালিল্যান্ড) পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই ইসরায়েল এ স্বীকৃতি দিয়েছে। আইন ও নৈতিকতার প্রতি এই অবজ্ঞা এখনই বন্ধ করতে হবে।’ নিরাপত্তা পরিষদে আরব লিগের প্রতিনিধি মাজেদ আবদেলফাত্তাহ আবদেল আজিজ বলেন, এ অবৈধ স্বীকৃতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা কিংবা উত্তর সোমালিয়ার বন্দরগুলোতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের যেকোনো চেষ্টা তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন। পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাও ইসরায়েলের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছে। জাতিসংঘে পাকিস্তানের উপরাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ উসমান ইকবাল জাদুন বলেন, ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বিতাড়িত করে সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর যে আলোচনা আগে হয়েছিল, এ স্বীকৃতি সেই শঙ্কাকেই আরও বাড়িয়ে দিল।

১৯৯১ সালে গৃহযুদ্ধের পর সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল সোমালিল্যান্ড। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে কোনো দেশ তাদের স্বীকৃতি না দিলেও গত সপ্তাহে ইসরায়েল সেই পথে হাঁটায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও যুক্তরাজ্যও সোমালিয়ার অখ-তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। চীনের প্রতিনিধি সান লেই বলেন, কোনো দেশেরই নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে অন্য দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে মদদ দেওয়া উচিত নয়।

বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি ট্যামি ব্রুস ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে বলেন, যেকোনো দেশের সঙ্গেই কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার অধিকার ইসরায়েলের আছে। তিনি এর সঙ্গে ফিলিস্তিনকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি দেওয়ার তুলনা টেনে নিরাপত্তা পরিষদের ‘দ্বিমুখী আচরণের’ সমালোচনা করেন। তবে স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল জবো গার এ তুলনা নাকচ করে বলেন, ‘ফিলিস্তিন কোনো রাষ্ট্রের অংশ নয়, এটি একটি দখলকৃত ভূখ-। কিন্তু সোমালিল্যান্ড জাতিসংঘের একটি সদস্যরাষ্ট্রের (সোমালিয়া) অংশ।’ ১৯৯১ সালে গৃহযুদ্ধের পর সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল সোমালিল্যান্ড। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে কোনো দেশ তাদের স্বীকৃতি না দিলেও গত সপ্তাহে ইসরায়েল সেই পথে হাঁটায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।