রয়টার্স, বিবিসি

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির খবরের মাঝেই তেহরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আসাটাই হবে ইরানের জন্য ‘খুবই বুদ্ধিমানের’ কাজ। ওয়াশিংটন যখন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ ঘটাচ্ছে, ঠিক তখনই এই হুঁশিয়ারি এলো।

গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি কূটনৈতিক সমাধান আশা করছেন। তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে, ইরানের ওপর হামলার পক্ষে ‘অনেক যুক্তিসঙ্গত কারণ’ রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে হামলার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টকে নিশ্চিত করেছেন যে আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে আঘাত হানতে সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তবে ট্রাম্প এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, গত গ্রীষ্মেও ইরানর তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির খবর পাওয়া গেলেও লেভিট জানিয়েছেন, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষ এখনও ‘অনেক দূরে’ অবস্থান করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান আরও বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে আসবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন।

বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও কয়েক ডজন ফাইটার জেটসহ মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বর্তমানে ইরানের খুব কাছে অবস্থান করছে। এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী মার্চের মাঝামাঝিতে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক মোতায়েন সম্পন্ন হবে।

মার্কিন এই রণপ্রস্তুতির জবাবে ইরানও শক্তি প্রদর্শন করছে। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক তেল রুট হরমুজ প্রণালিতে মহড়া শুরু করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে মার্কিন রণতরি ‘ফোর্ড’ সমুদ্রের তলদেশে ডুবে আছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন রণতরি বিপজ্জনক ঠিকই, তবে তার চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র যা এই রণতরিকে ডুবিয়ে দিতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার ফলাফল আগে থেকে নির্ধারণ করার প্রচেষ্টাকে ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেন।