আল জাজিরা,রয়টার্স : সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কয়েকবছর ধরে চলমান আপাত শান্তিপূর্ণ অবস্থার পর নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় আলেপ্পোর বাসিন্দারা এখন আশা ও ভয়, দুটোর মাঝেই আটকে আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আল জাজিরার এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, লাগাতার ভারী গোলাবর্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে এবং বেসামরিক মানুষ ও সাংবাদিকরা সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে আছেন। তিনি বলেন, “টানা ও তীব্র গোলাবর্ষণে আমরা চারবার হামলার মুখে পড়েছি, এমনকি একটি গুলি আমাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রেও আঘাত করেছে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের সংঘর্ষ আগের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র। সবচেয়ে বেশি লড়াই চলছে জনবহুল আশরাফিয়েহ ও শেখ মাকসুদ এলাকায়, যেখানে প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। সংঘর্ষ শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আনুমানিক এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। ক্রসফায়ার এড়াতে গিয়ে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, আতঙ্কে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়।
প্রায় ১৫ বছরের সংঘাতে অতিষ্ট এক বৃদ্ধ তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হতাশার সঙ্গে বলেন, “আল্লাহ যেন আমার প্রাণ নিয়ে নেন, আমি এখন শান্তি চাই।” আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় উঠে আসে, সংঘাত চলাকালীন সবাই যখন নিরাপদ স্থানের খোঁজে দৌড়াদৌড়ি করছিলেন, তখন এক বৃদ্ধা কিভাবে ভীড়ের মধ্যে পদদলিত হন। তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে তার ছেলে রাস্তায় আহাজারি শুরু করলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। গত শুক্রবার সকালে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও তা টেকেনি। চুক্তি অনুযায়ী এসডিএফ যোদ্ধাদের ভারী অস্ত্র রেখে এলাকা ছাড়ার কথা ছিল। তবে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে কিছু গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানালে যুদ্ধবিরতি বারবার ভেঙে পড়ে।
পরবর্তীতে সিরীয় সরকার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর আগে বেসামরিকদের এলাকা ছাড়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়। সরকার বলছে, সংঘর্ষ শেষ হলে সবাইকে ঘরে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে এবং এটি কোনো জাতিগত সংঘাত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যকার লড়াই। বিশ্লেষকদের মতে, গত মার্চে এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ থেকেই বর্তমান সহিংসতার সূত্রপাত। সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির শর্ত ও কমান্ড কাঠামো নিয়ে অচলাবস্থার কারণে আলেপ্পোর বাসিন্দারা আবারও শান্তির আশা আর অতীতের দুঃসহ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।