ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্বরোচিত হামলায় ইরানে ৫১ জন শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবার সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে বিশে^ ইরানে ইসরাইল ও মার্কিন হামলার নিন্দায় ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ইসরাইল ও মার্কিন ঘাটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়ে যাবে বলে আইআরজিসি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছে। ইরান ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক চাইল ফ্রান্স ও ওমান। আল জাজিরা, এএফপি, সিএনএন, ফবস নিউজ, মেহের নিউজ।
ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির মিনাব সিটিতে ৫১ স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজগানে একটি প্রাক-প্রাথমিক মহিলা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রথমে পাঁচ, পরে ২৪ শিশু নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল। এদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিচ্ছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রতিশোধমূলক ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির মিসাইলগুলো আঘাত হেনেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এতে আরব আমিরাতে একজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
নিন্দায় স্পেন : ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে। নরওয়ে, সুইডেন, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ কড়া ভাষায় এই আগ্রাসনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের দাবি জানিয়েছে।এবার এই সারিতে যুক্ত হলো স্পেনের নাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলাকে ‘একতরফা’ সামরিক পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপগুলো পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে এবং একটি আরও অনিশ্চিত ও প্রতিকূল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সানচেজ আরও বলেন, তিনি ইরানি সরকার ও রিভোল্যুশনারি গার্ডের কর্মকা-ও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধার দাবি জানাচ্ছি’।
ইরানের শতাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি ইসরাইলের
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর পুরো দস্তুর যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। আগ্রাসনের জবাবে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বাহিনী। এরই মধ্যে ইরানের শতাধিক সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার দাবি করেছে ইসরাইল। এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে বিমান হামলা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে শতাধিক সামারিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা। দখলদার এই বাহিনী আরও জানায়, ইসরাইলি বিমান বাহিনী ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
এর আগে তৃতীয় দফায় প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে তেহরান। এর পর ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে ইরান, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে। ইরানে হামলায় সহযোগিতা করা ও সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে আরব দেশগুলোর মাটিতে প্রতিশোধমূলক আঘাত হানছে ইরান। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সব স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা করছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বাহিনী।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিচ্ছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রতিশোধমূলক ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির মিসাইলগুলো আঘাত হেনেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এতে আরব আমিরাতে একজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইরানে ইসরাইল ও মার্কিন হামলার নিন্দার ঝড়
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর আবার সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। কঠোর ভাষায় জবাব দিয়ে যাচ্ছে তেহরান। সংঘাতের কারণে আরব সাগর, পারস্য উপসাগর ও ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে বিমান চলাচল ও জনজীবন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় সব দেশই অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এমতাবস্থায় ইরানে হামলার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। ইরানের সরকারের কার্যক্রমের জন্য জনগণকে শাস্তি দেওয়ার উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেক্সিমে প্রেভোট। তিনি বলেন, আমরা গভীরভাবে অনুতপ্ত যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো আরও আগে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
নরওয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েয়ে যে, ইসরাইল এ হামলাকে প্রতিরোধমূলক বললেও এটা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ বলেন, প্রতিরোধমূলক হামলার জন্য অবশ্যই তাৎক্ষণিক হুমকির প্রয়োজন। ইসরাইল ও মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাাকিস্তানও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার বলেন, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। এই সংকটের শান্তিপূর্ণ ও আলোচনাপ্রসূত সমাধানের জন্য দ্রুত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করতে হবে। এদিকে সৌদি আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছিল। যদিও এরপরই রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইরান ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের সভা চাইলো ফ্রান্স ও ওমান
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আঘাতের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনার পাশাপাশি নতুন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্স ও ওমান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভা চেয়েছে। দুই দেশই বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগে আলোচনা জরুরি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁন সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, বর্তমান উত্তেজনা সবার জন্যই বিপজ্জনক। এটি বন্ধ হওয়া দরকার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়বে। তাই ফ্রান্স জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক চাচ্ছে। ম্যাক্রোঁন আরও জানান, প্রয়োজনে ফ্রান্স তার ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি ইউরোপীয় দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে ফ্রান্সের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সম্প্রতি এসব দেশেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ওমান-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, এই হামলা অঞ্চলজুড়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যার পরিণতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। ওমানও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভা চেয়েছে। তাদের আহ্বান, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে। ওমান বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে আত্মরক্ষার অধিকার আছে। তবে একই সঙ্গে তারা সংযম ও কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে। উল্লেখ্য, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরোক্ষ আলোচনায় ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল।
হুঙ্কার আইআরজিসির : শত্রুরা চূড়ান্ত পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত হামলা চলবে
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ‘‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিশালী আঘাত’’ হেনেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।’’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব সম্পদ ইরানের সেনাবাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত হাফ ডজন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েতের আল-সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। আমিরাতের আবু ধাবিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ও জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি রিয়াদে বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর পুনরায় সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জোর দিয়ে বলছে, এর জবাবে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার বৈধ অধিকার তেহরানের রয়েছে।
নিজেদের সরকার দখলে নিতে ইরানিদের প্রতি আহ্বান ট্রাম্পের
ইরানে চলমান ব্যাপক আক্রমণকে কাজে লাগিয়ে দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি ভিডিও বিবৃতিতে ট্রাম্প ইরানিদের প্রতি আহ্বান জানান যে, ইরানে চলমান তাদের ব্যাপক আক্রমণকে কাজে লাগিয়ে যেন তারা দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করে। তিনি বলেন, যখন আমরা শেষ করব, নিজেদের সরকার দখলে নিন। এটি আপনাদের নেওয়ার জন্য থাকবে। বহু প্রজন্মে এটাই সম্ভবত আপনাদের একমাত্র সুযোগ। তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক করে বলেন, তারা যদি অস্ত্র ফেলে না দেয়, তাহলে ‘নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি’ হতে হবে, তবে অস্ত্র সমর্পণ করলে তাদের ‘মুক্তি’ দেওয়া হবে।
ইরানে হামলার আগে কয়েক মাস যৌথ ছক কষেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল
ইরানের ওপর পরিচালিত এই বিধ্বংসী হামলার নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে দীর্ঘ কয়েক মাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং যৌথ পরিকল্পনা ছিল বলে নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী এই সমন্বয় ও প্রস্তুতির কারণেই ইরানের ওপর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এবং সম্পূর্ণ সুসংগত উপায়ে এই ব্যাপক হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানি শাসনের সামরিক শক্তিকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা এবং ইসরাইলের জন্য তৈরি হওয়া যেকোনো অস্তিত্ব সংকটের হুমকি চিরতরে নির্মূল করা। ইসরাইলের প্রথম পর্যায়ের লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সেগুলো উৎক্ষেপণের সরঞ্জাম। বর্তমানে তেহরানে অবস্থিত ইরানের গোয়েন্দা সদর দপ্তরের দিক থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কু-লী উঠতে দেখা যাচ্ছে। আইডিএফ আরও জানিয়েছে, এমনকি এই মুহূর্তেও ইসরাইলি বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরান জুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে চলেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী এই অভিযান আরও দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।
নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ ১৫ দেশের
নিজেদের নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীনসহ ১৫টিরও বেশি দেশ। পাশাপাশি ইরানে ভ্রমণ বিষয়ক সতর্কতাও জারি করেছে দেশগুলো। দেশগুলোর এ পদক্ষেপের প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুক্রবারের একটি মন্তব্য। ইরানের পরামাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫ দফা সংলাপ হয়েছে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে। গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় পঞ্চম দফা সংলাপ শেষ হওয়ার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের। সংলাপ শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটনে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ৫ দফা সংলাপের পর যে ফলফল এসেছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে সমঝোতা হলেও ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিয়ে কোনো ঐকমত্য ছাড়াই শেষ হয়েছে সংলাপ। ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির কারণ এটাই। কিন্তু শুক্রবার মন্তব্যের পর থেকেই নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার আহ্বান জানানো শুরু করে বিভিন্ন দেশ। কারণ জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা এ ইসরাইলে যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেনÑ যে কোনো সময় হামলা হতে পারে ইরানে। এরইমধ্যে, ইসরাইল ইরানে ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ শুরু করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শনিবার সকালে এক জরুরি বিবৃতিতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এ দাবি করেন। ইরানের ওপর এই হামলা শুরু হওয়ার পরপরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ পুরো ইসরাইল জুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।