এএফপি
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াটা অন্যতম প্রধান শর্ত। ইসরাইলের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতেও হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেবে তেহরান।
গতকাল সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমরা জোর দিয়ে বলছি, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যেকোনো চুক্তির জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি একটি অপরিহার্য শর্ত।’
ইরানের পক্ষ থেকে এমন বার্তার দিনেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলীতে বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর এই নির্দেশের আগে ইসরাইলি সেনারা ঐতিহ্যবাহী দুর্গ বোফোর্টের দখল নেয়। এরপর এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখন আমার নির্দেশ হলো হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে দখল আরও জোরালো ও সম্প্রসারিত করা।’ হিজবুল্লাহ ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন ও লেবাননকে সমর্থন জোগাতে ইরান সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তখনই ইসরাইল লেবাননে আগ্রাসন জোরালো করেছে। এবার ইরানও হিজবুল্লাহ ও লেবাননকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিল।
দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের চাওয়া, ইরান যেন তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে। যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার শুরুর দিকের প্রস্তাবগুলোতেও এ বিষয়টি শর্ত হিসেবে উল্লেখ ছিল।
দেশ নির্মম ইসরাইলি আগ্রাসনের মুখে
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, তাঁর দেশ ইসরাইলের নির্মম আগ্রাসনের মুখে পড়েছে। গতকাল ুসোমবার লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি জরুরি বৈঠক ডাকতে যাচ্ছে। এর আগে আউন এমন মন্তব্য করলেন। পরিষদের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে লেবাননের ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গও দখল করেছে ইসরাইল। এর মাধ্যমে তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরদার করেছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জোসেফ আউন ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেই সঙ্গে তিনি লেবাননের জনগণ, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ অবসানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিপরীতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বোফোর্ট দুর্গ দখলের ঘটনাকে যুদ্ধের একটি নাটকীয় মোড় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা আগের চেয়েও অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছি।’
বোফোর্ট দুর্গটি ২০০০ সালের আগেও দখলে নিয়েছিল ইসরাইল। তখন তারা এটিকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখন আমার নির্দেশ হলো হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে দখল আরও জোরালো ও সম্প্রসারিত করা।’
সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিক দুর্গের ওপর ইসরাইলি পতাকা উড়তে দেখেছেন। তখনো আশপাশ থেকে গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ জানিয়েছেন, স্থল অভিযান আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে সেনারা কৌশলগত দুর্গটি দখলে নিয়েছে। এখান থেকে থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।