ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ও আরব দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি। অ্যাক্সিওস, জেরুজালেম পোস্ট, আল জাজিরা, বিবিসি. এএফপি, সিএনএন।
ফোনালাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ-সহ কয়েকজন নেতা সম্ভাব্য চুক্তির প্রতি সমর্থন জানান এবং আলোচনা ব্যর্থ হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অ্যাক্সিওসের উদ্ধৃতিতে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “তারা সবাই বলেছেন, আমরা এই চুক্তির ব্যাপারে আপনার সঙ্গে আছি। আর যদি এটি সফল না-ও হয়, তাহলেও আমরা আপনার সঙ্গেই থাকব।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ওই নেতাদের জানান যে, তিনি এরপর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলবেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে তিনিও একই অবস্থানে থাকবেন।
এ সময় ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যেসব দেশ এখনও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়নি, তাদের ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা উচিত।
ফোনলাইনে নেমে আসে নীরবতা
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে সৌদি আরব, কাতার ও পাকিস্তানের নেতারা কিছুটা বিস্মিত হন।
এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, “ফোনলাইনে তখন নীরবতা নেমে আসে। পরে ট্রাম্প মজা করে জানতে চান- ‘আপনারা কি এখনও (লাইনে) আছেন?”
এরপর রবিবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আরও দেশ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলে আঞ্চলিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
ট্রাম্প লেখেন, “মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ঐতিহাসিক আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে তাদের যোগদানের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও জোরদার ও শক্তিশালী হবে।”
এদিকে সোমবার ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নিয়োজিত মার্কিন প্রতিনিধিদের ‘তাড়াহুড়া না করতে’ নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে দাবি করা হয়েছিল।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা “সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে এগোচ্ছে”, তবে উভয় পক্ষেরই সময় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
নিজেদের ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছে ইরান
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করার একটি প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে তেহরান। রোববার (২৪ মে) মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চলমান এই আলোচনা নিয়ে বেশ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেও চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের সূত্র জানায়, এই সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান যেমন তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে পারে, তেমনি বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে বন্দর অবরোধ তুলে নিতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবার উন্মুক্ত করে দেবে ইরান।
মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কমানোর বিনিময়ে ইরানকে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই দেওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা চলছে।
তবে আলোচনার এই অগ্রগতি সত্ত্বেও চুক্তিটি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট আধাসামরিক সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়টিসহ চুক্তির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা আটকে রেখেছে। তাসনিম নিউজ এক বিবৃতিতে জানায়, জনগণের অধিকার আদায়ে ইরান তার ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। এদিকে রোববার সকালে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান পারমাণবিক বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ বা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে বিকেলের দিকে হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানান, দলিলের মূল নীতিগুলোর ওপর উভয় পক্ষের একটি ব্যাপক প্রতিশ্রুতি তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ ঘোষণা নামে অভিহিত এই সমঝোতা স্মারকে প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যা পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
অবশ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আলোচনা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে চলছে। আমি আমার প্রতিনিধিদের বলেছি চুক্তি করার জন্য কোনো তাড়াহুড়ো না করতে, কারণ সময় এখন আমাদের পক্ষে। যতক্ষণ না একটি চুক্তি সম্পন্ন, প্রত্যয়িত এবং স্বাক্ষরিত হচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের ওপর অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে জারি থাকবে।
মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এই চুক্তিটি সম্পন্ন হতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিল প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে তা চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য সর্বোচ্চ নেতার কাছে পাঠানো হবে।
সময়ক্ষেপণ কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভীষণ চাপে ফেলেছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরান সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ও মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রস হ্যারিসন।
তিনি বলেছেন, ইরান এই সংঘাত এমন একটি অবস্থায় শেষ করতে চায়, যেখানে দেশটি ভবিষ্যতের জন্য অন্তত কিছু অর্থনৈতিক স্বস্তি ও টিকে থাকার সুযোগ পাবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যারিসন বলেন, “ইরানের জন্য এটি শুধু সময়ের বিষয় নয়, বরং টিকে থাকার প্রশ্ন। তারা এমনভাবে এই সংঘাত থেকে বের হতে চায়, যাতে নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতার কিছুটা পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়।”
তিনি আরও বলেন, এবারের প্রতিরোধ কৌশল অতীতের তুলনায় ভিন্ন। আগে ইরান মূলত আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠী ও প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে পরোক্ষ প্রতিরোধ গড়ে তুলত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান সরাসরি কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর এই বিশ্লেষণমূলক মন্তব্য করলেন রস হ্যারিসন।
বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতার কাঠামো তৈরি হয়েছে, তবে তিনি এখনই কোনও চুক্তিকে ‘আসন্ন’ বলতে রাজি নন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বিশ্বাস করে যে, সময় যত গড়াবে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তত বাড়বে। সেই কারণে তেহরান আলোচনায় দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিবর্তে ধীরগতির কৌশল অনুসরণ করছে।
হ্যারিসনের ভাষায়, “ইরান সময়ক্ষেপণ করছে। কেননা, তারা মনে করছে, সময়ের চাপ যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বেশি দ্রুত বাড়ছে।”
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট শুধু সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন রূপও প্রকাশ করছে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা, তেলবাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনও স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী রয়ে গেছে।
ইরানচুক্তি ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক ফাঁদ
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে বলে ক্রমেই আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত যেমন যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তেমনি যুদ্ধ শেষ করতে সম্ভাব্য কোনও সমঝোতাও ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করতে পারে।
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে প্রতিবারই তার এমন আশাবাদ বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি কিংবা ইরানের অবস্থান সম্পর্কে ভুল হিসাব বলে প্রমাণিত হয়েছে।ফলে তেহরানের সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, ট্রাম্পের নতুন এই দাবিও ওয়াশিংটনে ব্যাপক সংশয় ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিকান কট্টরপন্থী ও ডেমোক্র্যাট- উভয় শিবিরই মনে করছে, ট্রাম্প হয়তো দুর্বল একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছেন।তবে কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শিথিল করার বিষয়ে একটি সমঝোতা কাছাকাছি পৌঁছেছে। এমন কোনও অগ্রগতি ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বৃহত্তর আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক
সম্ভাব্য চুক্তির যে খসড়া তথ্য সামনে আসছে, তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।ওয়াশিংটন যদি ইরানের কিছু সম্পদ অবমুক্ত করে এবং ধীরে ধীরে অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে তা কার্যত যুদ্ধের সময় ইরানের অর্জিত কৌশলগত সুবিধাকে স্বীকৃতি দেওয়ার শামিল হবে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
এছাড়া ইরান যদি কেবল প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, তবে তা ওয়াশিংটনে গভীর সন্দেহের মুখে পড়বে। কারণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুত নিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে অন্তত ৬০ দিনের আলোচনা সময়সীমা খুবই অল্প বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সমালোচকদের মতে, অতীত অভিজ্ঞতা বলছে ইরান দীর্ঘ ও অনির্দিষ্ট আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সময়ক্ষেপণের ফাঁদে ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের ওপর বাড়ছে চাপ
সম্ভাব্য এই চুক্তির রূপরেখা ট্রাম্পের আগের কঠোর অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অনেকে। মার্চ মাসে তিনি ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছিলেন। অথচ এখন আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথে হাঁটছেন।একই সময়ে দেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং রিপাবলিকানদের ভেতরেও সমর্থন দুর্বল হয়ে পড়ায় ট্রাম্প দ্রুত কোনও সমাধান খুঁজতে চাপের মুখে রয়েছেন।