# যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চান না ট্রাম্প
# মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সৈন্যরা দূরবর্তী স্থানে
# এফ-১৮ জঙ্গী বিমান ভূপাতিত
# ইরান দখলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করল কুর্দি যোদ্ধারা
ইরান এখন একটি চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ট্রাম্পের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ঠিকই তবে আলোচনায় বসার ইচ্ছা নেই তাদের। এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিপরীতমুখী প্রাস্তাব দিলেও তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। এছাড়া ট্রাম্প দ্রুত ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি চান বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বর্বর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় অনেক সৈন্য দূরবর্তীস্থান থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। আইআরজিসির আকাশ-প্রতিরক্ষা ইউনিটের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে একটি মার্কিন এফ-১৮ জঙ্গী বিমান। সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান দখলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমান করল কুর্দি যোদ্ধারা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, মিডল ইস্ট আই, আল-জাজিরা, এপি, সিএনএন, বিবিসি, এএফপি, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান।
‘যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব’ পর্যালোচনার কথা জানাল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরান এখন একটি চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে তার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ঠিকই, কিন্তু সংঘাত নিরসনে কোনো আলোচনায় বসার ইচ্ছা তাদের নেই। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, এর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটও তত বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন এক সময়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে এসব পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এল।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংলাপ বা আলোচনা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদান করা হয়েছে। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ‘বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে আমাদের কাছে আসা বার্তার উত্তর দেওয়া কিংবা নিজেদের অবস্থান জানানোকে সংলাপ বা আলোচনা বলা যায় না।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দেশটি আত্মরক্ষা ‘চালিয়ে’ যাবে। "আপাতত আলোচনার কোনো ইচ্ছা নেই,“ তিনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন। আরাগচি বলেন, “বন্ধু দেশগুলো” হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছে, কিন্তু এটি ‘সংলাপ’ নয় - হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়েছে যে আলোচনা চলছে। ইরান এর আগে যুদ্ধ শেষ করার জন্য পাঁচটি শর্ত দিয়েছিল, একজন ইরানি কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে এ কথা জানান। এর মধ্যে রয়েছে “সকল ফ্রন্টে” সংঘাতের অবসান এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি ১৫-দফা পরিকল্পনা পাওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে - তেহরান প্রথমে পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করলেও পরে আরাঘচি বলেন, “যদি কোনো অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তা অবশ্যই নির্ধারণ করা হবে।” ভূমিতে, ফুটেজে দেখা যায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি ইসরাইলী বিদ্যুৎকেন্দ্রে ধোঁয়ার কু-লী উঠছে এবং তেহরানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা চলছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিপরীতমুখী প্রস্তাব দিলেও তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই তথ্য জানিয়েছেন। ইসলামাবাদ এই প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে স্বীকার করলো যে, তারা দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় ইসহাক দার লিখেছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা বার্তার সাহায্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ছাড়াও মিসর, তুরস্ক এবং আরও কয়েকটি দেশ এই আলোচনাকে সফল করতে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
দ্রুত ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি চান ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় এক মাস হতে চললো। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মহল ও উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, তিনি এই যুদ্ধকে আর দীর্ঘায়িত করতে চান না। বরং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সংঘাতের ইতি টানতে চান তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজে মনে করছেন যুদ্ধ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জনসমক্ষে তিনি যে চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, উপদেষ্টাদের সেই লক্ষ্যেই অটল থাকতে বলেছেন তিনি। এমনকি মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে একটি সম্মেলনের পরিকল্পনা করছেন হোয়াইট হাউস। কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, সেই বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।
যুদ্ধের ময়দান থেকে ট্রাম্পের মনোযোগ এখন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে সরছে বলে মনে করছেন তার রাজনৈতিক মিত্ররা। সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর পাশাপাশি বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের পাঠানো এবং কংগ্রেসে ভোটারদের যোগ্যতা সংক্রান্ত কঠোর আইন পাস করার কৌশল নিয়ে তিনি বেশি সময় ব্যয় করছেন। ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীকে ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধ তার অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে।
ইরানের হামলার মুখে ‘রিমোট ওয়ার্কে’ বাধ্য হচ্ছেন মার্কিন সেনারা
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। সামরিক কর্মকর্তা ও মার্কিন প্রশাসনের সূত্রগুলো বলছে, এর ফলে অনেক সৈন্য ঘাঁটি থেকে সরে গিয়ে বিভিন্ন হোটেল এবং অফিস স্পেস থেকে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।বর্তমানে স্থলভিত্তিক সামরিক বাহিনীর একটি বড় অংশ ‘রিমোটলি’ বা দূরবর্তী স্থান থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তবে যুদ্ধবিমান চালানো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং হামলা পরিচালনায় নিয়োজিত পাইলট ও ক্রুরা এই বিকল্প উপায়ের বাইরে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব মার্কিন সেনাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে ইরানের আইআরজিসি। তবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এই হুমকি ইরানবিরোধী যুদ্ধ পরিচালনায় পেন্টাগনকে দমাতে পারবে না। কিন্তু এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ইরানের হামলার মুখে সেনাদের বিকল্প স্থানে সরিয়ে নেওয়াটা ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছে। সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ শুরুর সময় এই অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন ছিল। সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের মধ্য থেকে কয়েক হাজার সেনাকে বিভিন্ন জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে। কয়েকজনকে ইউরোপের মতো দূরবর্তী স্থানেও পাঠানো হয়েছে। তবে অনেক সেনাই মধ্যপ্রাচ্যে থেকে গেছেন। তারা এখন মূল ঘাঁটিতে নেই। ফলে যুদ্ধ পরিচালনা করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর বিশেষ অভিযান বিশেষজ্ঞ ছিলেন ওয়েস জে ব্রায়ান্ট। তিনি বলছেন, আপনি চাইলেই অভিযান চালানোর সরঞ্জাম একটি হোটেলের ছাদে বসিয়ে দিতে পারেন না। কিছু সরঞ্জাম অত্যন্ত ভারী ও স্থানান্তর করা বেশ জটিল কাজ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যে দেশকে সঙ্গে চায় ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে তাতে লেবাননকেও যুক্ত করতে চায় ইরান। মধ্যস্থতাকারীদের এমনটিই জানিয়েছে তেহরান। চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থানের বিষয়ে জানা আছে মধ্যপ্রাচ্যের এমন ছয়টি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশেও অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইল। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের দাবি—কোনো চুক্তি হলে ইরানের ওপর হামলা বন্ধের পাশাপাশি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ওপরও হামলা বন্ধ করতে হবে ইসরাইলকে।
ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর
লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আগুনের মুখে বা হামলার মধ্যে ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনা করার অর্থ হলো ‘আত্মসমর্পণ’ করা, যা হিজবুল্লাহ কখনোই করবে না।
নাঈম কাসেমের এই অনড় অবস্থানের পরপরই গোষ্ঠীটি ইসরাইলের অভ্যন্তরে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে হিজবুল্লাহ মধ্য ইসরাইলের বেশ কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরাইলী গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে, হিজবুল্লাহর ছোড়া অন্তত ছয়টি রকেট মধ্য ইসরাইলের দিকে ধেয়ে আসছিল, তবে সেগুলোর সবকটিই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝপথে রুখে দেওয়া হয়েছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, গত বুধবার তারা ইসরাইলী বাহিনীর ওপর মোট ৮০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে, যা বর্তমান দফার লড়াইয়ে একদিনে সর্বোচ্চ হামলার রেকর্ড। এছাড়া ৯টি সীমান্ত শহরে ইসরাইলী সেনাদের ওপর সরাসরি আক্রমণের দাবিও করেছেগোষ্ঠীটি। অন্যদিকে, ইসরাইলী সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে দক্ষিণ লেবাননে রকেট হামলায় তাদের একজন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এর আগে লড়াইয়ের সময় তাদের একজন কর্মকর্তা সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
এবার যুক্তরাস্ট্রের এফ-১৮ জঙ্গী বিমান ভূপাতিত করলো ইরানের নতুন বিমান-প্রতিরক্ষা-সিস্টেম
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তথা আইআরজিসির আকাশ-প্রতিরক্ষা ইউনিটের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে একটি মার্কিন এফ-১৮ জঙ্গীবিমান। এই বাহিনীর নৌ-বিভাগের সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুধবার বিকালে ইরানের চাবাহার অঞ্চলের আকাশে এই জঙ্গীবিমানটিকে শনাক্ত করে এবং বিমানটি ভূপাতিত করার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে তা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে ও সেটি ভারত সাগরে পড়ে যায়। এ নিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগ্রাসী মার্কিন ও ইসরাইলী সন্ত্রাসী সেনাদের একটি এফ-৩৫ জঙ্গীবিমানসহ চারটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গী বিমান শিকার করতে সক্ষম হল।
ইসরাইলের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি ইরানের
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাদের অভিযানের ‘৮২তম ধাপ’ শুরু করেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে এই সর্বশেষ ধাপের অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও মৃত সাগরের দক্ষিণে অবস্থিত দেশটির পারমাণবিক অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো।
আইআরজিসির নৌপ্রধানকে হত্যার দাবি ইসরাইলের
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ দাবি করেন, ইসরাইলী বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করেছে। কাৎজের দাবি, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া ও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মাইন স্থাপন করায় মূল ভূমিকায় ছিলেন আলিরেজা তাংসিরি। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ইরানকে ড্রোন সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া
ইরানে ড্রোন সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া। চলতি মাসেই এই সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে এবং মাসের শেষ নাগাদ ধাপে ধাপে পুরো চালান সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দাদের বরাতে ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এই খবর দিয়েছে।
খবর অনুসারে, রাশিয়া ইরানে খাদ্য ও ওষুধও পাঠাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর থেকে মস্কো তেহরানকে গোয়েন্দা সহায়তা ও স্যাটেলাইট তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে আগে খবর বেরিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ইরান দখলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করল কুর্দি যোদ্ধারা
ইরানে আগ্রাসন শুরু করার আগে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশ্যা ছিল প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও সামরিক কমান্ডাররা নিহত হবেন। এতে রাস্তায় নেমে আসবে সাধারণ নাগরিকরা। তাদের ক্ষোভের মুখে পতন ঘটবে সরকারের, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখেও শাসন ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। একপর্যায়ে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে স্থল হামলা চালিয়ে দেশটি দখলের চিন্তা করলেও তা মার্কিন সেনাদের দিয়ে সম্ভব না- এটা মেনে নিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছিল ইরানের সীমান্তবর্তী ইরাকের কুর্দি যোদ্ধাদের। এরপর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তার প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিক বারবার বলে আসছেন যে, কুর্দিরা ইরানে আক্রমণ করে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাবে। ওয়াশিংটনের সেই স্বপ্নও আর পূরণ হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কাছের মিত্র যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো একে একে ট্রাম্পকে ছেড়ে গেছে। এবার কুর্দিরা সাফ জানিয়ে দিল যে, তারা ইরানে হামলা করবে না।
একজন শীর্ষস্থানীয় ইরাকি কুর্দি কমান্ডার বলেছেন, তার বাহিনীর ইরান আক্রমণ করার কোনো পরিকল্পনা নেই।