দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। শনিবারের এই বর্বরোচিত হামলায় অঞ্চলটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এটি কেবল একটি সামরিক হামলা নয়, বরং মানবতা ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

মিনাবে রক্তক্ষয়ী চিত্র: ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ জন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA) জানিয়েছে, হামলার পর থেকে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। হামলায় আরও ৬৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
তেহরানেও হামলা: মিনাবের ঘটনার পাশাপাশি ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্ব দিকে অবস্থিত আরেকটি স্কুলেও ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত দুইজন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে। সব মিলিয়ে একই দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি হামলায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও হুঁশিয়ারি: ইসরায়েলের এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ হামলার একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “এই বর্বরোচিত অপরাধের শিকার হয়েছে নির্দোষ শিশুরা।” তিনি দৃঢ়ভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইরানি জনগণের ওপর চালানো এই অপরাধের জবাব দেওয়া হবে।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলাকে ‘স্পষ্ট অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দাবির অসারতা: হামলার পর আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছে যে, তারা কেবল ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত করছে এবং ইরানি জনগণকে আঘাত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু স্কুল ও বেসামরিক অবকাঠামোয় এই ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে তাদের সেই দাবির অসারতা প্রমাণ হয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ ভাল মন্তব্য করেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি জনগণকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে যা ঘটছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ইরানি জনগণের ওপর সরাসরি আগ্রাসন।”
আগ্রাসনের ইতিহাস: উল্লেখ্য যে, গত বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। সেই সময় ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছিলেন এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবারের হামলা সেই ধারাবাহিক আগ্রাসনেরই একটি অংশ বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এখন পর্যন্ত এই হামলা ও নিহতের ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।