ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেও এই স্থাপনাটিতে হামলা হয়েছিল। সে সময় স্যাটেলাইট ছবিতে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত দেখা যায়। ইরানের অ্যাটমিক এনার্জি অর্গানাইজেশন অব ইরান জানিয়েছে, নাতানজে অবস্থিত শহীদ আহমাদি রোশন সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে এ হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটি এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘অপরাধমূলক হামলা’ বলে বর্ণনা করেছে।

তবে এর ফলে তেজষ্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি। তারা আরও জানায়, শনিবারের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি এবং অন্যান্য পারমাণবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিমালা।

নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনাটি তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরাইল প্রথম এই স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রও সেখানে হামলা করে। এদিকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইসরাইল জানিয়েছে, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে- যেখানে বড় বড় তেল স্থাপনা রয়েছে, সেখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছেন, নানতানজে বাঙ্কার বাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।

গত বছরের জুনে দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২দিনের যদ্ধ হয়। ওই সময় ফোর্দো, নানতানজ ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে এক ডজনেরও বেশি বিশালাকৃতির বোমা ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যেগুলো মাটির নিচে থাকা অবকাঠামো ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ছোড়া হয়েছিল।

এর আগে ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে আজ নানতানজ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।