এপি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তার দেশের ড্রোন বিশেষজ্ঞরা আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে থাকবেন। মূলত ড্রোন প্রযুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন-এর সঙ্গে এক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি এই প্রস্তাবের কথা জানান।
ইউক্রেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ব্যয়বহুল পিএসি-৩ আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের সংকটে ভুগছে। কিয়েভ আশঙ্কা করছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হলে এই সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় ড্রোন ইন্টারসেপ্টরের বিনিময়ে ওই দেশগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু অংশ ইউক্রেনকে দেবে। জেলেনস্কির মতে, এই প্রযুক্তি তাদের ইরানি ড্রোন হামলা থেকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষা দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ড্রোন মোকাবিলায় তিনি ঠিক কীভাবে সাহায্য করতে চান, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, এই পর্যায়ে এর বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। আমি মনে করি, আগামী সপ্তাহে বিশেষজ্ঞরা যখন সেখানে পৌঁছাবেন, তখন তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সহায়তা করবেন।
জেলেনস্কি আরও বলেন, আমরা খুব করে চাইছি এটি যেন উভয় পক্ষের জন্যই একটি সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।
রাশিয়া গত চার বছর ধরে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের নকশা করা শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। এর বিপরীতে ইউক্রেন সস্তা ও কার্যকর একগুচ্ছ ড্রোন ইন্টারসেপ্টর তৈরি করেছে। কিয়েভের দাবি, আকাশে আক্রমণকারী ড্রোনকে আঘাত করতে সক্ষম তাদের এই বিমানগুলো বিশ্বসেরা।
শীতকালে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্বের কারণে ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোগুলো রুশ বিমান হামলার মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল। এর ফলে হিমাঙ্কিত তাপমাত্রায় লাখ লাখ মানুষকে হিটিং ব্যবস্থা ছাড়াই থাকতে হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের কাছ থেকে এমন কোনও সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি।