বিবিসি, সিএনএন : এশিয়ার বাজারে গতকাল বুধবার দিনের শুরুতেই জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে বলে দাবি করার পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে ইরানি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করেছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৫৬ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ দশমিক ২০ ডলারে।
গতকাল মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ‘এখনই’ চলছে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত পক্ষগুলো ‘চুক্তি করতে মরিয়া’।
এর আগে গত সোমবার তেহরানের একজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার এ দাবিকে ‘‘ভুয়া খবর’’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এখনো ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুদ্ধ বন্ধের এ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
জ্বালানি নিয়ে বিপর্যয়ের শঙ্কায় ফিলিপাইন : ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের চলা যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ফিলিপাইনে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা হয়েছে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র গত মঙ্গলবার এ জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহের প্রাপ্যতা ও স্থিতিশীলতা বর্তমানে ‘আসন্ন বিপদের’ মুখে রয়েছে।
আগামী এক বছরের জন্য জারি করা এ জরুরি অবস্থার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন। কমিটি জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধ ও কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ ও বণ্টন নিশ্চিত করবে।
গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে:
জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর করা।
পরিবহন খরচ কমাতে জ্বালানিতে ভর্তুকি ও অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণ।
জ্বালানি তেল মজুতদারি, অতিরিক্ত মুনাফা করা ও বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
এ ছাড়া, তেলের ক্রমবর্ধমান দামের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মোটরসাইকেল ট্যাক্সিচালক ও পরিবহন কর্মীদের জন্য ৫ হাজার পেসো (প্রায় ৮৩ ডলার) করে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কোস।
এ উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষক, জেলে ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের জন্যও বিশেষ কল্যাণমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।