দ্রুত ফুরোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভা-ার

শান্তিরক্ষায় শাহবাজের উদ্যোগের প্রশংসায় ইরানের প্রেসিডেন্ট

খারগ দ্বীপে যারাই হামলা চালাবে তারা জীবিত ফিরে যাবে না

ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত শাহেদ ড্রোনের উন্নত সংস্কারণ ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া। এই ড্রোন ইরানের হাতে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ইরান যুদ্ধে হুতিদের অংশগ্রহণে বিপাকে পড়বে ইসরাইল; বিশেষ করে বিশ^ বাণিজ্যের আরেকটি পথ রুদ্ধ হতে পারে। চলমান যুদ্ধে বেশি পরিমাণ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার দুশ্চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র। চার সপ্তাহের যুদ্ধে ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। বর্তমানে এ বছরে মাত্র কয়েকশ’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হয়। এদিকে খারগ দ্বীপে যারাই হামলা চালাবে তারা আর জীবিত ফিরে যাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। এর বাইরে ইয়েমেন থেকে ইসরাইলে প্রথমবারের মতো ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

রাশিয়া ড্রোন বড় চ্যালেঞ্জে পড়বে মার্কিন ও মিত্র বাহিনী : ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত শাহেদ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া। মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এ সপ্তাহে এ তথ্য জানিয়েছেন। মূলত ইরানের তৈরি অত্যাধুনিক শাহেদ ড্রোনই ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করে আসছিল রাশিয়া। তবে এ ড্রোনে এখন জেট ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নেভিগেশন, উন্নত জ্যামার-প্রতিরোধী ব্যবস্থা ও স্টারলিংক ইন্টারনেট ডিভাইস যুক্ত করে আরও শক্তিশালী করেছে মস্কো। সেই উন্নত ড্রোনই এখন তেহরানে পাঠানো হচ্ছে। আজারবাইজান হয়ে মানবিক সহায়তার নামে ট্রাকে এই ড্রোন পরিবহন করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা। তবে চালানটি কত বড় এবং এটি একবারে সরবরাহ করা নাকি ধারাবাহিকভাবে করা সরবরাহের অংশ, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ খবরকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এপি, ডন, আল জাজিরা, এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ‘অন্য কোনো দেশ ইরানকে যা-ই সরবরাহ করুক না কেন, তা আমাদের অভিযানের সাফল্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার উন্নত এই ড্রোন ইরানের হাতে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।

দ্রুত ফুরোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন : চলমান ইরান যুদ্ধে বেশি পরিমাণ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। চার সপ্তাহের যুদ্ধে ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নৌযান এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এবং এক হাজার মাইলের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। বর্তমানে বছরে মাত্র কয়েকশটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হয়, তাই বিশ্বব্যাপী এর সরবরাহ সীমিত।

আধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ২০০৪ সাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে যা জিপিএস ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা এখন ‘চিন্তার বিষয়’। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে দ্রুতই স্টক শেষ হয়ে যেতে পারে। পেন্টাগনের অফিসিয়াল বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমরা ‘উইনচেস্টার’-এর কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি—যা সামরিক ভাষায় গোলাবারুদ শেষ হওয়া বুঝায়। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের একক মূল্য সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার এবং তৈরি হতে দুই বছর সময় লাগে। পেন্টাগন এরই মধ্যে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করেছে। এদিকে মার্কিন কংগ্রেস সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড এর মোট মজুতের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কয়েকটি থাড রাডার সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে এবং সেগুলো পুনঃস্থাপন করতে কয়েক বছরের বেশি সময় লাগবে। এর ফলে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যেই ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে। এখন তাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার উৎপাদনকারক কারখানাগুলো ধ্বংস করা।

হুতিদের অংশগ্রহণে বিপাকে ইসরাইল

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা খুব একটা ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি। কেননা, এসব হামলা ছিল বিক্ষিপ্ত এবং অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝপথে আটকে দেওয়া হয়েছিল।তবে কয়েক মাস পরই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ইসরাইলী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে একটি হুতি ড্রোন তেল আবিবের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।ইসরাইলের ওপর ইয়েমেনের হুতিদের আবার হামলা শুরু হওয়া দেশটির জন্য বাড়তি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে; যদিও এটি বড় কোনো সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করার সম্ভাবনা কম। তবে হুতিরা যদি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এর প্রভাব হবে নাটকীয়।বর্তমানে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়াতে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাচ্ছে। এশিয়ার বাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো এ তেলের জাহাজগুলো ইয়েমেনের পাশ দিয়ে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়।২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫-এর শুরু পর্যন্ত হুতিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে প্রায় ২০০টি হামলা চালিয়েছে। এতে ৩০টির বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত একটি জাহাজ ছিনতাই করা হয়েছে। ফলে বাব আল-মানদাব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছিল।ইরান যদি কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং একই সঙ্গে হুতিরা লোহিত সাগরের পথটিও বন্ধ করে দেয়, তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথের এ যুগপৎ বন্ধ হওয়া বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।

খারগ দ্বীপে যারাই হামলা চালাবে তারা আর জীবিত ফিরে যাবে না’

খারগ দ্বীপে যারাই হামলা চালাবে, তারা আর জীবিত ফিরে যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই। গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।ইব্রাহিম রেজাই এক বিবৃতিতে বলেন, খারগ দ্বীপে যেকোনো আক্রমণের জবাব হবে কঠোর। যারা এই দ্বীপে হামলা চালাবে, তারা আর জীবিত ফিরে যাবে না।খারগ দ্বীপ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যা দেশটির জ্বালানি রফতানির বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এই দ্বীপ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা ও সামরিক সতর্কবার্তা বাড়ছে।এর আগে, তেহরান জানিয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী শত্রুরা একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ইরানের একটি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে। সেটিকে খারগ দ্বীপ বলে ইঙ্গিত দেয় বার্তা সংস্থা আল-জাজিরা। যার প্রতিক্রিয়ায় হামলা হলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেয় ইরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ইরান শত্রুর গতিবিধি নজরদারি করছে। তারা যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে আমরা সেই আঞ্চলিক দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ধারাবাহিক ও নিরলস হামলা চালাব।

শান্তি রক্ষায় শাহবাজের উদ্যোগের

প্রশংসায় ইরানের প্রেসিডেন্ট

যুদ্ধের দামামা থামাতে ও আলোচনার পথ সুগম করতে ‘আস্থা তৈরি’র ওপর জোর দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী এক ফোনালাপে তিনি এ জোর দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) জানিয়েছে, ইরানের ওপর ইসরাইলের চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে শাহবাজ শরিফের ‘আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেছেন পেজেশকিয়ান। ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আলোচনা ও মধ্যস্থতা সহজতর করার জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা জরুরি।’ শান্তি রক্ষায় পাকিস্তানের সহযোগিতামূলক ভূমিকার জন্য তিনি শাহবাজ শরিফকে ধন্যবাদ জানান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ইরানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান তার গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। এর আগে ফোনালাপে শাহবাজ শরিফ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ইসরাইলী হামলার তীব্র নিন্দা জানান ও ১ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

কুয়েত বিমানবন্দরে কয়েক দফায় ড্রোন

হামলায় রাডার ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় এর রাডার ব্যবস্থার ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেএনএ (কুনা) এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরটি ‘বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলার শিকার’ হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ বিমানবন্দরটি বেশ কয়েকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সবশেষ গত বুধবার বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ডিপোতে ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকা- ঘটে। এসব হামলার জন্য কুয়েত ইরানকে দায়ী করেছে।

লেবাননে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও

রকেট হামলায় ৯ ইসরাইলী সেনা আহত

দক্ষিণ লেবাননে দুটি হামলায় নিজেদের ৯ সেনা আহত হয়েছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইসরাইলী সামরিক বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে লড়াই চলাকালীন একটি ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এক ইসরাইলী সেনা গুরুতর ও অন্য একজন মাঝারি ধরনের আহত হন। অন্য একটি ঘটনায় আজ শনিবার ভোররাতে দক্ষিণ লেবাননে অভিযানরত সেনাদের ওপর রকেট হামলায় এক ইসরাইলী সেনা গুরুতর ও আরও ছয়জন মাঝারি ধরনের আহত হন।

ইসরাইলী বাহিনী বর্তমানে লেবাননের ভূখ-ের আরও গভীরে ঢোকার চেষ্টা করছে। কিছু এলাকায় তারা সীমান্ত থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার (৪ দশমিক ৩ মাইল) পর্যন্ত ভেতরে অগ্রসর হয়েছে। এদিকে হিজবুল্লাহও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ইসরাইলী সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে হামলার নির্দিষ্ট স্থানের নাম উল্লেখ করা না হলেও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে একটি দাবি করা হয়েছে। তাতে হিজবুল্লাহ জানায়, সীমান্ত থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার (৩ দশমিক ৭ মাইল) দূরে দক্ষিণ লেবাননের তাইবেহ শহরে ইসরাইলী সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে তারা।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ

চলাচলে ইরানের সঙ্গে থাইল্যান্ডের চুক্তি

ইরানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে থাইল্যান্ডের তেলবাহী জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচলের বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এ তথ্য জানিয়েছেন। গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অনুতিন বলেন, ‘থাই তেলবাহী ট্যাংকারগুলো যেন হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে, সে বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এ চুক্তির ফলে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে যে দুশ্চিন্তা ছিল তা দূর হবে।

ইয়েমেন থেকে প্রথমবারের মতো ব্যালিস্টিক

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানাল ইসরাইল

ইরানের মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে যোগ দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলী সামরিক বাহিনী। বিবৃতিতে ইসরাইলী সামরিক বলেছে, তারা ইয়েমেন থেকে ইসরাইলের ভূখ- লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। এ হুমকি মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে। দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করতে যাওয়া এই যুদ্ধে ইয়েমেন থেকে হামলা হওয়ার বিষয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি।

আজ শনিবার ভোরের এই বিবৃতির আগে গতকাল শুক্রবার আরও কিছু খবর পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়, ইরান প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে তেল আবিবে অন্তত পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলে গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ইসরাইলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল ও সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজছিল।

কঠোর জবাব দেওয়ার

হুঁশিয়ারি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইসরাইলকে ‘ভারি মূল্য’ দিতে হবে। এদিকে, ইরানি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে বন্ধ এবং এই পথে যেকোনো ধরণের যাতায়াত কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিশেষ করে মার্কিন-ইসরাইল জোটের মিত্রদের কোনো জাহাজ এই জলসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। ইরানের সামরিক কর্মকর্তা সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সম্পৃক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তার দাবি, এবার আর ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি থাকবে না, বরং আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের দুটি পারমাণবিক-সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলা হয়েছে, যার একটি খোন্দাব হেভি ওয়াটার কমপ্লেক্স এবং অন্যটি ইয়াজদের আরদাকানের ইয়েলোকেক উৎপাদন কেন্দ্র। তবে কোথাও তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়েনি বলে জানানো হয়েছে। রাজধানী তেহরানেও টানা বিমান হামলার মধ্যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার একটি পাকিস্তান দূতাবাসের আশপাশে। এতে পাকিস্তানি কূটনীতিকরা নিরাপদ থাকলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই সময় পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, স্থলবাহিনী ছাড়াই কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে সামরিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত শেষ হলেও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল-গ্যাস পরিবাহিত হয়। অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ‘অবৈধ ও নির্মম যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে জরুরি বৈঠকেও কথা বলেছেন আরাঘচি।

এদিকে পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তৎপরতা বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুজাতিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল রক্ষায় প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে। এদিকে যুদ্ধের মাঝেই ইসরাইলের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘নেতানিয়াহু কোনো ফ্রন্টেই (গাজা, লেবানন বা ইরান) জেতার ক্ষমতা রাখেন না।’ তিনি দাবি করেন, ইসরাইলী সেনাবাহিনীতে ২০ হাজার সৈন্যের ঘাটতি থাকলেও রাজনৈতিক কারণে সরকার কট্টরপন্থীদের নিয়োগ দিচ্ছে না। সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল উত্তেজনা এখন নতুন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যার প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে পড়তে পারে।