এক্সে, রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে জাঁতাকলে পড়েছেন পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক। একদিকে প্রাণের ঝুঁকি, অন্যদিকে কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন, এই দুই সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলোতে অবস্থানরত শ্রমিকদের জীবন ও সামাজিক নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। সংস্থাটি বলছে, সংঘাতের মধ্যেও এই দেশগুলোর অর্থনীতি সচল রাখতে খাবার ও পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের মতো জরুরি কাজগুলো অভিবাসী শ্রমিকরাই করে যাচ্ছেন। কিন্তু আয় কমে যাওয়া, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক উপ-পরিচালক মাইকেল পেজ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিক একদিকে শারীরিক নিরাপত্তার হুমকি এবং অন্যদিকে কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। এই সংঘাত কাফালা ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রম অধিকারের যে ফাঁকফোকরগুলো ছিল, সেগুলোকে আরও নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে।”

সংস্থাটি বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ভারত, নেপাল এবং বাংলাদেশের ৩৮ জন শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। কাতারভিত্তিক এক হাসপাতাল কর্মী বলেন, কখনও রাতে, কখনও দিনে বিস্ফোরণ ঘটে। মাথায় সারাক্ষণ চিন্তা ঘোরে, কী হতে যাচ্ছে? দেশে আমি আমার সন্তানকে রেখে এসেছি। ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে বেশ কয়েকজন অভিবাসী শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে আরব আমিরাতের আজমানে হামলায় কুপিয়ে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে মারা গেছেন সালেহ আহমেদ নামে এক বাংলাদেশি। বাহরাইনের হিদ শিল্প এলাকায় নৈশকালীন ডিউটি শেষে ফেরার পথে মাথায় স্প্লিন্টার লেগে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন এ. এম. তারেক নামে আরেক বাংলাদেশি। এ ছাড়া কুয়েতে ড্রোন হামলায় পাকিস্তানি ও নেপালি কর্মীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আল্লাহ বাঁচিয়েছেন, নয়তো বেওয়ারিশ কুকুরের মতো মরে পড়ে থাকতাম। আমাদের মতো নিরপরাধ মানুষগুলো কেন বিনা কারণে এই কষ্ট ভোগ করছে? সংঘাতের কারণে কাতার, কুয়েত ও আমিরাতের ছোট দোকানগুলোতে শাকসবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে।