এবিসি নিউজ, আল জাজিরা
ইরানের কোনও দ্বীপ দখলের চেষ্টা করা হলে প্রতিবেশী একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ ও বিরতিহীন হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বুধবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই সতর্কবার্তা দেন। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেশী দেশটির উল্লেখ না করে তিনি জানান, ‘ইরানের শত্রুরা’ অঞ্চলের একটি দেশের সহায়তায় একটি ইরানি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে। ঘালিবাফ বলেন, ইরানি বাহিনী শত্রুদের প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে। যদি তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়, তবে আমরা ওই অঞ্চলের সহায়তাকারী দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে লক্ষ্যভেদ ও নিরবচ্ছিন্ন হামলা চালাব।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, ইরানিরা পারস্য উপসাগরে মার্কিন সেনা ও যুদ্ধজাহাজের সমাবেশ সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ-এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঘালিবাফ তার হুমকিতে নাম না নিলেও মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই ইঙ্গিত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আমিরাত এই দ্বীপ দখলে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা বা উৎসাহ দিতে পারে। ইরানি সূত্রগুলো বলছে, খার্গ দ্বীপটি ছোট হলেও মূল ভূখ-ের খুব কাছে অবস্থিত। ফলে সেখানে মার্কিন সেনারা পা রাখলে তা তাদের জন্য অত্যন্ত বিপর্যয়কর হবে এবং এর কড়া মাশুল দিতে হবে আমিরাতকেও।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যদি ইরানের কোনও দ্বীপে বা ভূখ-ে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে ইরান লোহিত সাগরের মোহনায় একটি নতুন ফ্রন্ট খুলে দিতে পারে। ইয়েমেন ও জিবুতির মধ্যবর্তী কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ইরান একটি নির্ভরযোগ্য হুমকি তৈরি করার সক্ষমতা রাখে বলে ওই সূত্রটি দাবি করেছে। এমনকি তেহরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও প্রয়োজনে এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘শত্রু’কে শাস্তি দিতে প্রস্তুত বলে জানা গেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এর মধ্যেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার ইরানকে ‘পরাজয়’ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরান যদি বর্তমান বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হয় এবং তারা যে সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে তা মেনে না নেয়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের ওপর এমন আঘাত হানবেন যা তারা আগে কখনো দেখেনি।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফাঁকা হুমকি দেন না, তিনি নরক পরিস্থিতি তৈরি করতে প্রস্তুত। শান্তি আলোচনার দাবির মধ্যেই পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার ছত্রীসেনা পাঠাচ্ছে। এর আগে দুই কন্টিনজেন্ট মার্কিন মেরিন সেনা সেখানে পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সেনাকে সেখানে মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রণক্ষেত্রের এই উত্তেজনার মধ্যেই পর্দার আড়ালে কিছু কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছেন। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে একটি ১৫ দফার পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে, বিপরীতে ইরানও নিজস্ব ৫টি শর্ত সামনে রেখেছে।