ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল জোটের মধ্যে সংঘাত যখন এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে, তখন বিশ্বের রাজধানীগুলো, সংবাদকক্ষ ও নীতিনির্ধারণী মহলে একটি গুরুতর প্রশ্ন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে চীন কি ইরানকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবে? আর যদি আসে, সেই সহায়তার রূপই বা কেমন হবে? এই প্রশ্নের উত্তর প্রচলিত সামরিক জোটের দ্বৈত প্রত্যাশাকে ভেঙে দেয়। চীন সরাসরি সেনা পাঠাবে বা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে—এমন সম্ভাবনা কম। নেই বললেই চলে। কিন্তু এটিকে নিছক নিষ্ক্রিয়তা মনে করা হলে, তা হবে একবিংশ শতাব্দীর মহাশক্তির প্রতিযোগিতার প্রকৃতি সম্পর্কে ভুল পাঠ। ইরানের প্রতি চীনের সমর্থন বাস্তব, বহুমাত্রিক এবং অনেক দিক থেকে সামরিক হস্তক্ষেপের চেয়ে বেশি টেকসই। তবে এটি ভিন্ন এক কৌশলগত তরঙ্গে পরিচালিত।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চীন ধারাবাহিকভাবে তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করেছে—ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা। গত মাসে এক জরুরি বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত সান লেই ওয়াশিংটনের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘বলপ্রয়োগ কখনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। এটি কেবল সমস্যাকে আরও জটিল ও দুর্বোধ্য করে তোলে। যে কোনো সামরিক অভিযাত্রিকতা অঞ্চলটিকে এক অনিশ্চিত অতলে ঠেলে দেবে।’ এটি কেবল শূন্য বাগাড়ম্বর নয়। চীনের সরকারি অবস্থান স্পষ্টভাবে ‘ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার’ পক্ষে এবং ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি’র বিরোধী। জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে অবস্থান নিয়ে চীন তেহরানকে যে অমূল্য সম্পদটি দিচ্ছে, তা হলো বিশ্বমঞ্চে বৈধতা এবং পশ্চিমা চাপের বিপরীতে এক শক্তিশালী পাল্টা-বয়ান।