রয়টাস, এএফপি : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও হামলা চালাতে দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কার মাঝেই সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন একটি ‘‘নৌবহর’’ উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর ইরানের ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে ওয়াশিংটন। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কার্যক্রমে নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দেশটির রাজধানী আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনার একটি আমিরাতের এই ঘাঁটি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমনকি ইরানে কোনও হামলায় লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না আমিরাত।

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপের পাশাপাশি উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সর্বোত্তম উপায় বলে জানিয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী ও একাধিক সহায়ক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। ফলে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী এবং কয়েকটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাভুক্ত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে প্রবেশ করেছে।

সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌবহর এগোচ্ছে, যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না। এদিকে, গত সপ্তাহে ইরানের এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর কোনও হামলা হলে তা তারা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।