আল-জাজিরা : বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের এক বছর পরও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে সিরিয়া। নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর একটি জাতীয় সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী পুনর্গঠন করা। দশকের পর দশক ধরে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে অনেকেই শাসকগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য নির্মম দমনযন্ত্র হিসেবে দেখেছেন। তারা বিরোধী মত দমন করতেই বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, নতুন অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনী পুনর্গঠন ও নতুন করে সদস্য নিয়োগ শুরু করেছে। লক্ষ্য হলো, এমন একটি সেনাবাহিনী গড়ে তোলা, যার আনুগত্য থাকবে দেশের প্রতি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি নয়।
আলেপ্পো শহরে সামরিক একাডেমি থেকে সদ্য পাস করা সেনাদের এক অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুরহাফ আবু কাসরা বলেন, ‘আমরা সেনাবাহিনী পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছি। সিরিয়ার জন্য যোগ্য ও সক্ষম একটি জাতীয় সেনাবাহিনী গড়াই আমাদের লক্ষ্য, যা দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে।’
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া হবে দীর্ঘ ও কঠিন। কারণ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মানসিকতা বদলে তাদের একটি পেশাদার ও সংগঠিত সেনাবাহিনীতে রূপান্তর করা সহজ হবে না।
এ ক্ষেত্রে আরও বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে, নতুন নিয়োগ দেওয়া বিপুল সংখ্যক সদস্যের যাচাই-বাছাই, রুশ সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার অব্যাহত রাখা হবে কিনা সিদ্ধান্ত নেওয়া, দক্ষিণ সিরিয়া ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ বাহিনীকে একীভূত করা এবং দেশের বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর আস্থা অর্জনের মতো বিষয়গুলো।
একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ সেনাবাহিনী গড়ে তোলা গেলে সিরিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার পথ খুলবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের ক্যারোলিন রোজ বলেন, ‘সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সেনাবাহিনীতে একীভূত করতে ব্যর্থ হলে সিরিয়া ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। সেনাবাহিনীতে ঐক্য না থাকলে এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজন চলতে থাকলে বারবার নিরাপত্তা সংকট তৈরি হবে, যা দেশকে আবার গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।’
২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর আসাদ সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীও ভেঙে পড়ে। অনেক সেনা দেশ ছেড়ে পালায়, কেউ লুকিয়ে পড়ে, আবার কেউ অস্ত্র ও পরিচয়পত্র জমা দেয়। এ সময়ই ইসরায়েল সিরিয়াজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ইসরায়েলের দাবি, তারা সিরিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছে। গত এক বছরে ইসরায়েল ৬০০ বারের বেশি হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো সেনা ও কর্মকর্তাদের বড় অংশ বাদ দেওয়ায় এবং সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নতুন সিরীয় সেনাবাহিনীকে প্রায় শূন্য থেকেই শুরু করতে হচ্ছে।