আল জাজিরা : কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু চালিয়েছে থাইল্যান্ড। ‘নিজেদের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে’ এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। গত রোববার পর্যন্ত দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সীমান্তে সংঘর্ষ হয়েছে। এর আগে থাইল্যান্ডের সঙ্গে থাকা সব ধরনের সীমান্ত ক্রসিং বন্ধের ঘোষণা দেয় কম্বোডিয়া। এ দুই দেশের মধ্যে রয়েছে ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। ঔপনেবিশ আমলে ভাগ করা এ সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সীমান্তবর্তী কিছু অঞ্চল নিজেদের বলে দাবি করে তারা। নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। যারমধ্যে সেনার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও আছেন। থাইল্যান্ডের নৌবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার এডমিরাল পারাখ রাত্তানচাইয়াপানের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মাতিচোন অনলাইন জানিয়েছে, ত্রাত প্রদেশের কাছে নিজেদের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে তারা নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছেন।

ভোরে শুরু হওয়া এ অভিযানে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে জানিয়ে এ নৌ কর্মকর্তা বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষা এবং ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা শত্রুপক্ষকে হটিয়ে দিয়ে ওই অঞ্চলটি পুনরুদ্ধার করেছে। দেশটির পাবলিক টেলিভিশন থাই পিবিএসও জানিয়েছে, হামলা চালানো স্থল থেকে কম্বোডিয়ার সেনাদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে থাইল্যান্ডের পতাকা উড়িয়েছেন সেনারা। টিভি-৩ নামে থাইল্যান্ডের আরেক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার ভোর থেকে সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনী সীমান্তে যৌথ অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ সংঘাতে কত মানুষ হতাহত হয়েছেন সেটি এখনো জানা যায়নি। কম্বোডিয়ানরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাদের সীমান্তবর্তী পুরসাত প্রদেশের থামার দা এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে থাইল্যান্ড।

থাইল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় কারফিউ ঘোষণা: দক্ষিণ-পূর্বের ট্রাট প্রদেশে কারফিউ ঘোষণা করেছে থাইল্যান্ড। কারণ কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ উপকূলীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান কংসিরি ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সম্ভাব্য শান্তির মধ্যস্থতাকারী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, দুই দেশ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এর দুই দিন পর এমন সিদ্ধান্ত নিলো থাইল্যান্ড। রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান কংসিরি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে, শনিবার কম্বোডিয়া আবারও যুদ্ধবিরতি গ্রহণের প্রস্তাব দেয়ার পর থেকে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘থাইল্যান্ড কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত, তবে কম্বোডিয়াকে প্রথমে শত্রুতা বন্ধ করতে হবে। তারপরই আমরা আলোচনা করতে পারব।’ গত শনিবার থাইল্যান্ডের বাহিনী জানায়, তারা একটি সেতু ধ্বংস করেছে যা কম্বোডিয়া উপকূলে ভারী অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করতে ব্যবহার করছি এবং কোহ কং প্রদেশে পূর্বেই স্থাপিত আর্টিলারির ওপর লক্ষ্যভেদী অভিযান চালিয়েছে। কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডকে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ করেছে।

থাইল্যান্ডের কারফিউ ট্রাট প্রদেশের পাঁচটি জেলায় প্রযোজ্য, যা কোহ কং-এ প্রতিবেশী, তবে পর্যটক দ্বীপ কোহ চাং ও কোহ কুড অন্তর্ভুক্ত নয়। পূর্বের সাকেও প্রদেশে আরোপিত কারফিউ এখনও বজায় আছে। আজ সোমবার থেকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া তাদের ৮১৭ কিলোমিটার সীমান্ত বরাবর ভারী অস্ত্র বিনিময় করছে, যা জুলাইয়ের পাঁচদিনব্যাপী সংঘর্ষের পর থেকে সবচেয়ে তীব্র। ওই সংঘর্ষে ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, তিনি শুক্রবার থাইল্যান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সব গুলিবর্ষণ বন্ধে তারা সম্মত হয়েছে। গতকাল শনিবার অনুতিন প্রতিজ্ঞা করেছেন, “যতক্ষণ না আমরা আমাদের ভূমি ও জনগণের নিরাপত্তায় সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা পাই, ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাব।” হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প প্রত্যাশা করেন, সব পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করবেন এবং হত্যা বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে কাউকেই দায়মুক্ত রাখা হবে না।