এএফপি : ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ভারতের চিন্তা নতুন করে বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এর ফলে কি ভারতের ওপর চাপানো শুল্কহার ৫০ থেকে বেড়ে ৭৫ শতাংশ হয়ে যাবে? দুশ্চিন্তা বৃদ্ধির কারণ গতকাল সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা। নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, পৃথিবীর যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখবে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কহার চাপাবে।
ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ওইসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করতে হলে বাড়তি এই শুল্ক দিতে হবে। সিদ্ধান্ত সোমবার রাত থেকেই কার্যকর হবে এবং এর নড়চড় হবে না। দুই সপ্তাহ ধরে ইরান জনবিক্ষোভে উত্তাল। বিক্ষোভের সামাল দিতে ইরান সরকার হিমশিম খাচ্ছে। ব্যাপক দমনপীড়নের অভিযোগ উঠছে। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৬০০ বিক্ষোভকারীর। ইরানের এই বিক্ষোভে সরাসরি মদদ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার তেহরানকে চাপে রাখতে তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোকেও তিনি বাড়তি শুল্কের হুমকির মুখে ফেলে দিলেন। এতেই গাঢ় হয়েছে ভারতের কপালের ভাঁজ। এমনিতেই ভারতীয় পণ্যের শুল্ক ২৫ শতাংশ ধার্য করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, ভারত ‘ট্যারিফ কিং’। এরপর রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল কেনার শাস্তি হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর তিনি বাড়তি ২৫ শতাংশ জরিমানা শুল্ক ধার্য করেন। সেই অবস্থা থাকতে থাকতেই গতকাল সোমবার গভীর রাতে ইরানকে শাস্তি দিতে তাঁর সহযোগী দেশের ওপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক জারির ঘোষণা করা হলো। ভারতের কাছে এই ঘোষণা বোঝার ওপর শাকের আঁটির শামিল। ইরান অনেক দিন ধরেই ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মিত্র। চাল রপ্তানিতে ভারত পৃথিবীর এক নম্বর দেশ হিসেবে উঠে এসেছে প্রধানত ইরানের জন্যই। ভারত থেকে তারা বাসমতী চাল কেনে। আগের তুলনায় এই রপ্তানি বেড়ে গেছে। এই মুহূর্তে বিশ্বে চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের অবদান ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। বাসমতী চাল ছাড়াও ভারত রপ্তানি করে চা, ওষুধ, তৈরি গয়না, বৈদ্যুতিক যন্ত্র, চিনি ও টাটকা ফল। ইরানের প্রধান পাঁচ বাণিজ্যিক শরিকের অন্যতম ভারত। এই রপ্তানির পাশাপাশি ইরান থেকে ভারত আমদানি করে আপেল, খেজুর, পেস্তা, কিউইর মতো নানা ধরনের ফল।