দ্য হিন্দু : দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি নীতি বা লিকার পলিসি মামলায় বড় ধরনের আইনি স্বস্তি পেয়েছেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া। দিল্লির একটি আদালত সিবিআইয়ের দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) দিয়েছে।
কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া ছাড়াও তেলেঙ্গানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কে. চন্দ্রশেখর রাওয়ের কন্যা কে. কবিতাসহ আরও ২১ জনকে এই মামলায় ক্লিন চিট দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রায়াল কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তাদের দাবি, তদন্তের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এই রায়ে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। মামলার শুনানি চলাকালীন বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো প্রমাণ নেই এবং মনীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধেও প্রাথমিক কোনো মামলা গঠন করার মতো উপাদান পাওয়া যায়নি। বিচারক জানান, সিবিআইয়ের দাখিল করা বিশাল চার্জশিটে অনেক অসংগতি ও ত্রুটি রয়েছে, যা কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়। আদালতের মতে, এই অভিযোগগুলো আইনের শাসনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই কেজরিওয়ালকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছিল। এছাড়া মনীশ সিসোদিয়ার কাছ থেকে কোনো কিছু উদ্ধার হয়নি বা তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো দালিলিক প্রমাণও নথিতে নেই।
আদালতের এই রায়ের পর রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বাইরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, আদালত আজ প্রমাণ করে দিয়েছে তিনি এবং মনীশ সিসোদিয়া দুজনেই সৎ এবং আম আদমি পার্টি একটি ‘কট্টর ইমানদার’ দল। কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবথেকে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন, যা আজ ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে কে. কবিতাও এই জয়কে সত্যের জয় হিসেবে বর্ণনা করে টুইট করেছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই অব্যাহতি আপ নেতাদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।