বিবিসি, রয়টার্স : নেপালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের পথে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভায় দলটি দুই-তৃতীয়াংশ আসন অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। এর মধ্য দিয়ে নেপালে প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোকে হটিয়ে ক্ষমতায় যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)।

দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ। একসময় র্যাপার ছিলেন তিনি। পরে রাজনীতিতে এসে রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র হন। এবার সরকারপ্রধান হওয়ার পথে ৩৫ বছর বয়সী এই তরুণ।

গত বছরের জেন-জি অভ্যুত্থানে কে পি শর্মা অলির সরকারের পতনের পর থেকে নেপালের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এর ছোঁয়া লেগেছে এবারের সাধারণ নির্বাচনেও। বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে জেন-জি জোয়ারে একের পর এক বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রভাবশালী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক ধরাশায়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ব্যতিক্রম পুষ্প কমল দহল।

পুষ্প কমল দহল নেপালে ‘প্রচণ্ড’ নামে পরিচিত। একসময় মাওবাদী নেতা ছিলেন। দীর্ঘ এক দশক রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়েছেন। ‘প্রচণ্ড’ তাঁর গেরিলা নাম। পরে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে একাধিকবার নেপালের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নেপালের সাধারণ নির্বাচনে জেন-জি জোয়ারেও ভোটাররা ভরসা রেখেছেন প্রচণ্ডর ওপর। তিন দফায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পুষ্প কমল দহল। প্রথমবার ২০০৮ সালের আগস্ট থেকে ২০০৯ সালের মে পর্যন্ত। এরপর ২০১৬ সালের আগস্টে আবারও দেশের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ক্ষমতায় ছিলেন ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। সর্বশেষ ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত নেপালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির (এনসিপি) নেতা পুষ্প কমল দহল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রুকুম ইস্ট আসন থেকে এবারের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি। এবার নিয়ে তিনি টানা পঞ্চমবার পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পেলেন।

জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত কে পি শর্মা অলি এবারের নির্বাচনে ঝাপা-৫ আসন থেকে অংশ নিয়েছিলেন। এটি তেরাই অঞ্চলের একটি আসন, যা দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের এই নেতার দুর্গ হিসেবে পরিচিত। নিজ দুর্গে ধরাশায়ী হয়েছেন অলি, তা-ও বালেন্দ্র শাহর কাছে।

পরাজিত প্রভাবশালী রাজনীতিকদের তালিকায় আরও আছেন নেপালি কংগ্রেসের নেতা গগন থাপা। তিনি সারলাহি-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। হেরেছেন বালেন্দ্র শাহর রাজনৈতিক দল আরএসপির অমরেশ কুমার সিংয়ের কাছে।