যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসনের আরোপিত শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর পরপরই অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্বের সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

১৯৭৪ সালে প্রণীত ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আগামী ১৫০ দিন পর্যন্ত সব দেশের ক্ষেত্রেই এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে ইতোমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো আইন বা আইনের ধারা ব্যবহার করে আগের শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিজের প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের বিকল্প আছে—চমৎকার সব বিকল্প। এসব বিকল্প ব্যবহার করলে আরও বেশি অর্থ আসবে। আমরা আরও বেশি রাজস্ব আদায় করতে পারব এবং আরও শক্তিশালী হবো।”

ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্কনীতির ফলে গত প্রায় এক বছরে শুধু শুল্ক খাত থেকেই যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১৩ দশমিক ৩৫ হাজার কোটি ডলার আয় করেছে।

তবে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট রায়ে উল্লেখ করেন, এতদিন আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন, ১৯৭৭-কে বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে ওই আইনের আওতায় আরোপ করা শুল্ক আইনসম্মত নয় এবং তা অবৈধ।

অবশ্য এই অবৈধ শুল্ক থেকে উপার্জিত ১৩ দশমিক ৩৫ হাজার কোটি ডলারের কী হবে— সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আদলত দেননি, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে নিম্ন আদালতগুলো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের ওপরেও বিষয়টি ছাড়া হতে পারে।

বিশেষজ্ঞেরা আরও মনে করছেন, যারা ট্রাম্প প্রশাসনকে শুল্কবাবদ দেওয়া টাকা ফেরত চান, তাদের মামলা করতে হবে আমেরিকার আদালতে।

ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর হাজারের বেশি সংস্থা টাকা ফেরতের জন্য আইনি লড়াই শুরু করেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, শিগগিরই অন্য কোনো আইনের আওতায় দেশগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক ফিরিয়ে আনবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এ ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

সূত্র : রয়টার্স