পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। চলমান সংঘাতে উভয় পক্ষই একে অপরের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করার দাবি করছে।

এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান-এর তালেবান সরকার-এর হামলার বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষার’ অধিকার রয়েছে বলে পাকিস্তান-কে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তান বর্তমানে ‘অসাধারণভাবে ভালো করছে’। আল-জাজিরা-র লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউস সাউথ লন-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি হস্তক্ষেপ করতেন, তবে পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ‘খুব, খুব ভালো’।

তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তানের একজন দারুণ প্রধানমন্ত্রী আছেন। একজন দারুণ জেনারেল আছেন। দুইজনকে আমি খুবই সম্মান করি।

পাকিস্তান এখন অসাধারণ ভালো করছে আমার মনে হয়।’

অন্যদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের চলমান সংঘাতকে ‘অবাক হওয়ার মতো নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টার-এর দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামের পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি, বরং কয়েক মাস ধরে জমে থাকা উত্তেজনারই পরিণতি এটি।

থ্রেলকেল্ডের বিশ্লেষণে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক আরো আক্রমণাত্মক ও জোরালো পদক্ষেপ তাদের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ধারাবাহিক এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানো এবং পরিস্থিতির অবনতি হওয়া দুঃখজনক হলেও অপ্রত্যাশিত নয়।

আফগানিস্তানের তালেবান শাসকরা শুক্রবার জানিয়েছেন, তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। পাকিস্তান প্রধান শহরগুলোতে তাদের বাহিনীর ওপর বোমা হামলা চালানোর পর এবং সবচেয়ে গুরুতর সংঘর্ষে কয়েক ডজন সেনা নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য এলো।