ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা আইডিএফের-এর অত্যন্ত গোপন ইউনিট ‘ইউনিট ৫০৪’-এ প্রথমবারের মতো নারী যোদ্ধারা সরাসরি কমব্যাট মিশনে অংশ নিয়েছেন। এতদিন এই ইউনিটের অপারেশনাল টিমে শুধুই পুরুষ সদস্যদের আধিপত্য থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারা ভেঙে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নারী সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে গোপন মিশন পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মানব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন।
ইউনিটটির প্রথম নারী টিম কমান্ডার, লেফটেন্যান্ট ‘আর’ (ছদ্মনাম), জানান—একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশনে তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার নেতৃত্বে একটি দল সীমান্ত অতিক্রম করে অপরিচিত এলাকায় প্রবেশ করে এবং সম্ভাব্য তথ্যদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে। এই মিশনে তার সঙ্গে ছিলেন একজন নারী সার্জেন্ট, একজন কেইস অফিসার এবং অন্যান্য সদস্যরা।
তিনি বলেন, অভিযানের সময় তাদের প্রধান কাজ ছিল নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ স্থাপন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নারী সদস্যরা আলাদাভাবে নারীদের সঙ্গে কথা বলা ও তল্লাশি চালানোর দায়িত্ব পালন করেন, যাতে কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকে।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর দলটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অপারেশন সম্পন্ন করে এবং নিরাপদে ফিরে আসে। এই ধরনের অভিযানে যেকোনো মুহূর্তে বিপদের সম্ভাবনা থাকে—যেমন তথ্য ফাঁস হওয়া বা শত্রুপক্ষের নজরে পড়ে যাওয়া।
ইউনিট ৫০৪ মূলত ‘হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স’ বা মানবভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কাজ করে। বন্দি জিজ্ঞাসাবাদ এবং এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে তারা তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। আগে এই ইউনিটের নিরাপত্তা ও অপারেশনাল টিমে শুধুমাত্র পুরুষ সদস্যরা থাকলেও এখন সেখানে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।
ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাদের মতে, নারীরা অনেক ক্ষেত্রে সহজে পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে এবং কম সন্দেহের উদ্রেক করে—যা গোপন অভিযানে বিশেষ সুবিধা দেয়।
এই ইউনিটে যোগ দিতে নারী সদস্যদের কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রায় ৯ মাসের প্রশিক্ষণে ভাষা দক্ষতা, ছদ্মবেশ, অস্ত্র পরিচালনা এবং ক্লোজ কমব্যাটসহ নানা কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও পরীক্ষার বড় অংশ।
ধর্মীয় ও সামাজিক সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে এই নারীরা এখন সরাসরি সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। তারা নিজেদের শুধু সহকর্মী নয়, বরং একে অপরের যুদ্ধসঙ্গী হিসেবে দেখেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ইসরায়েলের সামরিক কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে নারী অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে।